কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা খাতুন হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী কহিনুর বেগম কনিকাকে (২৬) গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। নিষ্পাপ শিশুটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় দেখা দিয়েছে শোক ও ক্ষোভ।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশু আয়শার ঘাতক কহিনুর বেগম কনিকা জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাদের বাড়িতে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে মো. আব্দুল্লাহ কাফির সঙ্গে খেলছিল আয়শা। খেলার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহর হাতে থাকা কলমের আঘাত লাগে আয়শার চোখে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় ভীত হয়ে পড়ে কনিকা। তখন দায় এড়াতে কনিকা আহত আয়শাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ঘরের ভেতরে থাকা একটি ড্রামের মধ্যে আটকে রাখে, যাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। গত ১৭ এপ্রিল ঘটনাটি উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা সাহপাড়া এলাকায় ঘটে। এরপর ঘটনার আলামত আড়াল করতে ওই দিন রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে অন্য ব্যক্তির একটি পতিত জমিতে বাঁশের কঞ্চির ওপর আয়শার নিথর দেহ ফেলে আসে, যেন ঘটনাটি অন্য কোনোভাবে ঘটেছে বলে মনে হয়।
এদিকে, আয়শা নিখোঁজ হওয়ার পর দিনভর স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার মরদেহ উদ্ধার হলে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য। গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলার মূল আসামি কহিনুর বেগম কনিকাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কহিনুর বেগম কনিকা শিশু আয়শা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings