বিগত স্বৈরশাসনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন সূচনা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এবার কর্মপরিধি বাড়ানো হয়েছে, তবে এবার বাজেট গতবারের তুলনায় অর্ধেকেরও কমে নামিয়েছে নতুন সরকার।
গতকাল শনিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই ডিসি সম্মেলনকে সরকার ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন সূচনা’ হিসেবে দেখছে। স্বৈরশাসনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। নাসিমুল গনি বলেন, নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ‘কি করতে চাই, কেন করতে চাই, কীভাবে এবং কত দ্রুত করতে চাই—এসব বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার জন্যই সম্মেলনের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো একক কোনও খাতভিত্তিক নয় বরং বহু খাত জুড়ে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষ করে নাগরিক তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন বৃহৎ কর্মসূচি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে কিছু পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমে পাওয়া ভুল-ত্রুটি সংশোধন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রাষ্ট্রের প্রধান চারটি অঙ্গ-নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সমন্বিত দিকনির্দেশনা মাথায় রেখেই সম্মেলনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ মাঠ প্রশাসনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসি সম্মেলনের বাজেট ছিল প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যেখানে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা। চলতি বছরের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা, যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। যেসব খাতে ব্যয় না করলেও চলে, সেগুলো বাদ দিয়ে ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে এবং বাস্তব ব্যয় আরও কমানোর চেষ্টা থাকবে। নাসিমুল গনি বলেন, মাঠ প্রশাসন থেকে আসা বিপুল প্রস্তাবের মধ্যে অনেক বিষয় আগেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আবার কিছু প্রস্তাব রাজনৈতিক অগ্রাধিকার অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়। সম্মেলন শেষে এসব বিষয় উন্মুক্তভাবে জানানো হবে। এছাড়াও, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর সংশোধন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন, পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্লাইমেট রিসাইলেন্স ফান্ড ও ক্লাইমেট রিসাইলেন্স ক্রাইড ফান্ড গঠন, জেলা কারাগার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবল নিয়োগ, দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যালয়সমূহে হোস্টেল স্থাপন এবং হোস্টেলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা, পরিবেশবান্ধব হলো ব্রিকস তৈরিতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫ শতাংশে উন্নীতকরণ, ভরাট হয়ে যাওয়া খাসপুকুর খনন, ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটসমূহ চিহ্নিত করে বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings