রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন অবকাঠামো, যা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো দেশটির সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে একটি ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে যেতে এবং হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে বিবিসি ভিডিও ও ভৌগোলিক অবস্থান যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালটি হামলার শিকার হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দর বেগলভ শহরে বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তেল টার্মিনালে আঘাত হানা হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ইউক্রেনের ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানান বেগলভ। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির কারণে মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেল টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। এর বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য।
এছাড়া ইউক্রেন দাবি করেছে, সেন্ট পিটার্সবার্গের নিকটবর্তী ক্রনস্টাডে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার ফলে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য, কারণ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মস্কো জ্বালানি রপ্তানির আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহে সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং দেশীয় বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেন।
শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সামরিক প্রতিবেদনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর এবং শনিবার সকালে ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৫০০-রও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইউক্রেন এসব হামলার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings