এশার পর বিতর নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়লে পরে তাহাজ্জুদ পড়া যাবে কি না— এমন প্রশ্ন অনেক মুসল্লির মনেই ঘুরপাক খায়। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর আদায় করতে উৎসাহিত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন—
اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا
‘তোমরা রাতের শেষ সালাত হিসেবে বিতরকে নির্ধারণ করো।’ (বুখারি: ৯৯৮)
হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত তাহাজ্জুদের পর বিতর আদায় করতেন—
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজ আদায় করতেন। আমি তার সামনে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করতাম।’ (বুখারি: ৯৯৭)
তবে যিনি শেষ রাতে জাগতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন, তার জন্য এশার পরই বিতর আদায় করে নেওয়া উত্তম। পরে আল্লাহর ইচ্ছায় ঘুম ভাঙলে তিনি তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন করে বিতর আদায়ের প্রয়োজন নেই, কারণ এক রাতে দুইবার বিতর পড়ার বিধান নেই।
ইসলামী স্কলারদের মতে, যাদের শেষ রাতে ওঠার অভ্যাস বা সম্ভাবনা বেশি, তাদের জন্য তাহাজ্জুদের পর বিতর আদায় করাই উত্তম। আর যারা অনিশ্চিত, তারা এশার পরই বিতর পড়ে নিলে পরবর্তীতে তাহাজ্জুদের সুযোগ পেলে তা অবশ্যই আদায় করতে পারবেন।
বিতর নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আলী (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—
يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ أَوْتِرُوا، فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
‘হে কুরআনের অনুসারীরা! তোমরা বিতর আদায় করো। কারণ আল্লাহ বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে ভালোবাসেন।’ (আবু দাউদ: ১৪১৬)
সংক্ষেপে, বিতর আদায় করা হয়ে গেলেও তাহাজ্জুদের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। রাতের শেষভাগে ঘুম ভাঙলে তাহাজ্জুদ আদায় করা যাবে, কেবল পুনরায় বিতর পড়ার প্রয়োজন নেই।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings