হরমুজ প্রণালি পার করতে হলে প্রতিটি জাহাজকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল দিতে হবে ইরানকে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে আগাম টোল নির্ধারণ করতে বলছে। যা দিতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা ইউয়ানে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু জাহাজের ক্রুদের সতর্ক করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল পরিশোধ করতে হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রানজিট অনুমোদন নিতে হবে আগে থেকেই। এসময় বিটকয়েন বা চীনা ইউয়ানে পেমেন্ট নির্ধারণ করতে হবে। কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে ইরানের উপকূল ঘেঁষে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করতে হবে। ‘বন্ধুসুলভ’ কার্গো দ্রুত পারাপার, অন্যদের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা নিষেধাজ্ঞাও পেতে পারে।
ফিনানসিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, তেলবোঝাই ট্যাংকারের জন্য ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার পর্যন্ত টোল নির্ধারণ হতে পারে। বড় সুপারট্যাংকারের ক্ষেত্রে এই বিল কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
কেন ক্রিপ্টো ও ইউয়ান?
ইরানের ওপর যুক্তরষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে ডলারে লেনদেন কঠিন। তাছাড়া ক্রিপ্টো লেনদেন ট্র্যাক করা কঠিন এবং ইউয়ানে লেনদেন পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় ট্রাফিক অনেক কম। ইরান এটি চালু করলে প্রতিদিন আগে যেখানে প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত সেখানে অনেক বাড়বে।
তবে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হওয়ার আগে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে। হরমুজের দুপাশে প্রায় ৩০০-৪০০ ট্যাংকার উপসাগরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। শিপিং খাতের ভাষায়, পুরো এলাকা এখন ‘একটি পার্কিং লটে’ পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনে সুয়েজ বা পানামা খালের মতো কৃত্রিম খালে টোল নেওয়া বৈধ। তবে হরমুজের মতো প্রাকৃতিক জলপথে টোল আরোপ বৈধ নয়। গালফ দেশগুলো বলছে, এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইনের ‘নেভিগেশনের স্বাধীনতা’ নীতির লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণকে এখন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings