ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাশিয়ার চেচেন যোদ্ধারা। ইরানের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে চেচেন বাহিনী এবং এই লড়াইকে ‘জিহাদ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসটিভি-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ এ যুদ্ধকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ পদক্ষেপ একটি “ক্রুসেড” বা ধর্মযুদ্ধের শামিল।
অন্যদিকে, চেচেন বিশেষ বাহিনী ‘আখমত’-এর কমান্ডার আপতি আলাউদ্দিনভ এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সরাসরি “দাজ্জাল” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জবাব দিতে চেচেন যোদ্ধারা প্রস্তুত এবং রাশিয়ার অনুমতি পেলেই তারা ইরানে পৌঁছাতে পারেন।
চেচেন এ বাহিনী মূলত রাশিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চেচনিয়ার একটি আধা-সামরিক ইউনিট, যারা কাদিরভের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং “কাদিরোভসি” নামে পরিচিত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাদিরভের অধীনে থাকা এই যোদ্ধারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে অংশ নিয়েছে।
ড্রোন অপারেশন, স্নাইপার হামলা এবং শহুরে যুদ্ধে (আরবান ওয়ারফেয়ার) দক্ষতার জন্য চেচেন বাহিনী বিশেষভাবে পরিচিত। ইউক্রেন যুদ্ধেও তারা রাশিয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
সমর বিশ্লেষকদের মতে, চেচেন যোদ্ধাদের এ ঘোষণা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রাশিয়ার একটি কৌশলগত বার্তা হতে পারে। তারা মনে করছেন, মস্কো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চেচেন বাহিনীর এই অবস্থান শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান সংশ্লিষ্ট চলমান সংকটে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings