in

ইরানে ট্রাম্পের হামলা হুমকি ‘অপ্রয়োজনীয়’: নিউজিল্যান্ডের প্রধান

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ‘অসহযোগিতামূলক’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। 

লাক্সন স্পষ্ট করে বলেন যে, এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সংঘাত যেন আর কোনোভাবেই বিস্তৃতি লাভ না করে। সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্রিজ, জলাধার কিংবা যেকোনো ধরনের বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে উত্তেজনা প্রশমন করা জরুরি। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। 

সেই বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে যেন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটায় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক সম্পদ রক্ষা করা সব দেশের দায়িত্ব বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও নিউজিল্যান্ড যেভাবে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সমালোচনা করেছে, তা ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। 

লাক্সন জোর দিয়ে বলেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, বেসামরিক জনগণের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

নিউজিল্যান্ড সরকার শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। উইনস্টন পিটার্স ও মার্কো রুবিওর আসন্ন বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাক্সনের এই কঠোর মন্তব্য মূলত যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বেসামরিক জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক জোরালো আহ্বান। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের এই পরামর্শ গ্রহণ করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

Report

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

Loading…

0

‘সুযোগ থাকলে ইরানের সব তেল দখল করতাম’

যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে কী কী হারাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল?