in

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড়

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও বড় পতন ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচে ইতিমধ্যেই প্রভাব ফেলেছে।

 

গত এক সপ্তাহে (১-৭ মার্চ) মার্কিন অপরিশোধিত তেলের বাজার ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ভয়ে এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) একদিনেই মার্কিন তেলের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির তীব্রতা এতটাই যে কুয়েত তাদের তেল খনিতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তাদের মজুত তেলের জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। অন্যদিকে কাতার এবং ইরাকও তাদের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন হ্রাস করেছে। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বাজারে হাহাকার তৈরি হয়েছে। সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে, যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র কয়েক দিনে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৩৫ সেন্ট বেড়ে ৩.৩২ ডলারে পৌঁছেছে।

শেয়ারবাজারেও ধস লেগেছে। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচকও বড় পতনের শিকার হয়েছে। এই দরপতনের পেছনে শুধুই যুদ্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বলতা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে ৯২,০০০ মানুষের চাকরি হারানো অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব একসাথে) সৃষ্টি করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ জানিয়েছেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে না। যদিও তিনি নির্বাচনের সময় জ্বালানি খরচ অর্ধেক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান বাণিজ্যিক শুল্ক, ট্যারিফ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ইতিমধ্যেই ২ শতাংশের ওপর রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে, তবে আপাতত এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ কেবল ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত নয়, এটি সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি খরচের উর্ধ্বগতি এবং শেয়ারবাজারে পতন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তথ্যসূত্র : এনবিসি নিউজ

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

Report

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

Loading…

0

ইরান সংকটে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার আহ্বান পুতিনের

জরুরি সিদ্ধান্ত: দুই মিত্র দেশকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট