ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি ইরানে দ্রুত যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ৩টার দিকে ভ্লাদিমির পুতিন ও মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর মধ্যে ফোনালাপ হয়। ওই আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে পুতিনকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
ফোনালাপের কিছু সময় পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া জরুরি ভিত্তিতে ইরানে চলমান সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা সমাধানে বলপ্রয়োগের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে ফিরে আসার ওপর জোর দিয়েছে মস্কো।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে রাশিয়ার পূর্ণ সংহতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়ে যায়।
এর একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে নিজেদের সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন‘।
এই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া আবারও যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সংকট নিরসনের ওপর জোর দিয়েছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings