বিএলএ এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর বহর, বহরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত নিহতের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে বিএলএর দেওয়া হতাহতের দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ দাবি করেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও তাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছিল। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। এতে সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর, বেলুচিস্তান পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবাহিনী যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এর মধ্যেই বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং প্রদেশটির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরও এ প্রদেশে অবস্থিত।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরু থেকে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে বিএলএ, আর কয়েকটির সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবি থাকলেও সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings