বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সোমবার (১৮ মে) নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ মিজানুর রশীদকে। তবে সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই আদেশ বাতিল করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে বিমানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের তদন্ত শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
বিমান সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশন্স, ১৯৭৯-এর অনুচ্ছেদ ৫৮ অনুযায়ী আগামী ২০ মে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেনশন) করা হয়েছে।’
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘সাময়িক বরখাস্তকালীন মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ বিধিঅনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং তাকে বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করতে হবে।’
চিঠিতে তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পি-৩৬৩৩৯, পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) অতিরিক্ত দায়িত্ব। আদেশের অনুলিপি উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
আগের দিন ১৮ মে মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে পদায়ন করা হয়েছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পার্সোনেল শাখা থেকে জারি করা ওই অফিস আদেশে বলা হয়, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে এ পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছে।
মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশ প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিমান সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা শুরু হয়। পরে একই দিন রাতেই আরেক অফিস আদেশে পদোন্নতি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
বাতিল আদেশে বলা হয়, ‘জারি করা পদোন্নতি/পদায়ন সংক্রান্ত আদেশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।’
বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ‘সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনাকাটায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান। তবে একই অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে।’
এর মধ্যেই গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদ থেকে তাকে অর্থ ও হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়। পরদিনই তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার তদবিরেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।
সর্বশেষ পদোন্নতি, তাৎক্ষণিক বাতিল এবং পরদিন সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!



GIPHY App Key not set. Please check settings