মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার গ্রিনল্যান্ড সফর করেছেন, তার সফরের ফলাফল নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ভ্যান্সের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের চারপাশে, সমুদ্র সহ, তার সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ করতে চায়, তবে ওয়াশিংটনের এখনই এ ধরনের প্রচেষ্টা শুরু করার কোনও পরিকল্পনা নেই।
মার্কিন প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণভাবে যোগদানের আশা করে এবং এই ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে ভ্যান্স জানান। ‘আমরা যা মনে করি তা হল গ্রিনল্যান্ডবাসীরা ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বেছে নেবে এবং তারপরে আমরা গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সাথে আলোচনা করব,’ তিনি উল্লেখ করেন। ভ্যান্সের মতে, রাশিয়া এবং চীনের এই অঞ্চলে আগ্রহের আলোকে ডেনিশ কর্তৃপক্ষ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ‘আমরা জানি যে রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য দেশগুলি আর্কটিক প্যাসেজওয়ে এবং আর্কটিক নৌপথে এবং প্রকৃতপক্ষে, আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমেরিকা আর্কটিকের নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারণ আমরা জানি যে আমেরিকা যদি তা না করে, তাহলে অন্যান্য দেশগুলি শূন্যস্থান পূরণ করবে,’ ভ্যান্স বলেন।
‘সত্যি কথা বলতে চাই – গত ২০ বছর ধরে ডেনমার্ক কিছু ক্ষেত্রে (গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার সাথে জড়িত) কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই জায়গা, এই ঘাঁটি, আশেপাশের এলাকা ৩০-৪০ বছর আগের তুলনায় কম নিরাপদ, কারণ আমাদের কিছু মিত্র গ্রিনল্যান্ডে, এই ঘাঁটিতে, এখানে সাহসী আমেরিকানদের কার্যকলাপে চীন এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। আমরা জানি যে প্রায়শই ইউরোপে আমাদের মিত্ররা তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি, তারা সামরিক ব্যয়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি, এবং ডেনমার্ক এই ঘাঁটি ধরে রাখতে, আমাদের সৈন্যদের রাখতে এবং আমার মতে, রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য দেশের আক্রমণ থেকে গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যয় করতে পারেনি,’ ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন।
ঘটনাচক্রে, ভ্যান্সের সফর শুরুর আগেই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে সে দ্বীপের তিনটি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের ঘোষণা করেছিল। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত মন্তব্যের পরে তারা যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা করে বলেছেÑ ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের। আমরা নিজেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব। বাইরের কাউকে প্রয়োজন নেই।’ ওই দলগুলির মধ্যে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম গ্রিনল্যান্ডপন্থীরাও রয়েছেন। সূত্র : তাস।
This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!
GIPHY App Key not set. Please check settings