প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাইওয়ানের সাই ইং-ওয়েন (৫৯)।শুক্রবার শপথ নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) এই নেতা।

তিনি শপথ নেওয়ার পরই চীন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নতুন সরকার স্বাধীনতার দিকে হাত বাড়ালে তাইওয়ানে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। গত জানুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় স্বাধীনতাপন্থী দল ডিপিপি।  শপথ নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে সেই মনোভাবই পোষণ করেন সাই। বলেন, তাইওয়ানের মানুষ দেখিয়েছে ‘তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ চীন-তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ইতিহাসকে এক পাশে রেখে ইতিবাচক সংলাপে বসতে হবে, যাতে দুই পক্ষের মানুষের মঙ্গল হয়।’ চীন ও তাইওয়ান বিচ্ছিন্ন হয় ১৯৪৫ সালের গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে। ওই যুদ্ধে কমিউনিস্টদের কাছে হেরে যায় জাতীয়তাবাদী কুয়োমিনটাং যোদ্ধারা। কিন্তু তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে পেইচিং। তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতা দিতে রাজি নয়। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার হুমকিও দিয়েছে। এমনকি তাইওয়ানের দিকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রেখেছে তারা। এ অবস্থায় সাইকে মোটেও ভালোভাবে নেয়নি পেইচিং। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরই একটি বিবৃতি দিয়েছে চীনের ‘তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিস’ (টিএও)। তাতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন সরকার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করলে তাইওয়ানে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ‘তাইওয়ান ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পেইচিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা হবে মারাত্মক বিপর্যয়।’ টিএওর বিবৃতিতে সাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছে, ‘তাইওয়ান প্রশাসনের নতুন নেতা’ হিসেবে। ডিপিপি প্রধান সাই দৃঢ় মনোভাবসম্পন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত। অনেক দিন ধরেই তিনি এবং তাঁর দল তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন।         

YOUR REACTION?

Facebook Conversations



Disqus Conversations