ইসলামের মৌলিক বিধানাবলির অন্যতম রোজা। রোজা পালনে পদ্ধতিগত ভিন্নতা থাকলেও মৌলিক রোজার বিধান পূর্ববর্তী সব যুগের সব নবীর শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পর তাঁকে একটি বিশেষ ফল আহার করতে বারণ করেছেন।

এটাই মানব ইতিহাসের প্রথম সিয়াম সাধনা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি ও তোমার সাথি জান্নাতে বাস করতে থাকো এবং যেখান থেকে যা চাও, তা তোমরা খাও; কিন্তু এ গাছটির কাছেও যেয়ো না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯) কিন্তু শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে তাঁরা সেই নিষিদ্ধ ফল আহার করে ফেলেন। ফলে এর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাঁদের দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেন। সেই রোজা ভাঙার কাফফারাস্বরূপ আদম (আ.) ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন। আর ওই নিষিদ্ধ ফলের প্রভাব আদম (আ.)-এর পেটে ৩০ দিন বিদ্যমান ছিল বলে আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতকে আল্লাহ তাআলা এক মাস রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত মুসা (আ.)ও ৩০ দিন রোজা রেখেছিলেন। তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে আরো অতিরিক্ত ১০টি রোজা রাখার আদেশ দেন। ফলে তাঁর রোজা হয়েছিল সর্বমোট ৪০ দিন। হজরত ঈসা (আ.)ও মুসা (আ.)-এর মতো ৪০ দিন রোজা রাখতেন। হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মের পর আল্লাহ তাআলা হজরত মারইয়াম (আ.)-কে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল মৌখিক রোজা। হজরত ইদ্রিস (আ.) গোটা জীবন রোজা রেখেছিলেন। হজরত দাউদ (আ.) এক দিন পর পর—অর্থাৎ বছরে ছয় মাস রোজা রাখতেন। হজরত নুহ (আ.)-এর যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালনের বিধান ছিল। তাফসিরবিদ হজরত কাতাদা (রহ.) বলেন, ‘মাসে তিন দিন রোজা রাখার বিধান হজরত নুহ (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।’ এক বর্ণনামতে ‘হজরত নুহ (আ.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন বাদ দিয়ে সারা বছর রোজা রাখতেন।’ (ইবনে মাজাহ) এ ছাড়া বর্তমানে প্রচলিত ধর্মগুলোতেও বিভিন্ন সংযম, উপবাসপ্রথা দেখা যায়। ইসলামের রোজার ক্ষেত্রেও তিনটি পরিবর্তনের ধারা দেখা যায়—

প্রথমত, মদিনায় এসে রাসুল (সা.) সর্বপ্রথম আশুরার রোজা রাখতেন। এটাই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফরজ রোজা। তারপর রাসুল (সা.) প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখতেন। এগুলোকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়। অতঃপর হিজরতের দেড় বছর পর দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান মদিনা শরিফে পূর্ণ এক মাস রোজা পালনের হুকুম অবতীর্ণ হয়।

দ্বিতীয়ত, গোড়ার দিকে এই নির্দেশ ছিল যে, যে চাইবে রোজা রাখবে আর যে চাইবে না রোজার পরিবর্তে মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। এ বিধান সুস্থ-অসুস্থ, সবল-দুর্বল সবার জন্যই ছিল। পরবর্তী সময় সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে সুস্থ-সবল ও বাড়িতে অবস্থানকারীর জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে অসুস্থ, অতি দুর্বল, বার্ধক্যে জর্জরিত ও মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 তৃতীয়ত, পূর্ব যুগে রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে আগে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস বৈধ ছিল বটে; কিন্তু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর রাতে জেগে উঠলেও পানাহার ও স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ ছিল। পরে সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা মাগরিব থেকে সুবেহ সাদিক পর্যন্ত রমজানের রাতে পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দান করেন। [তথ্যঃ অনলাইন সংগৃহীত]

YOUR REACTION?

Facebook Conversations



Disqus Conversations