স্বামী ও স্ত্রীর পারিবারিক জীবনে শান্তি যদি হয় মুল লক্ষ, তবে বর্জন করতে হবে ৫ জিনিস

সাংসারিক জীবনে সমঝতা না থাকলে পোহাতে হয় নানান ঝামেলা। কিছু বিষয় কখনোই ঘটতে দেয়া যাবেনা যা তে করে বিবাহিত জীবন সব সময় সুখের হয়।

1. অধিকার খাটানো সন্দেহ না

অধিকার খাটানো সন্দেহ না

১/ একে ওপরের উপর  প্রক্র্রিত  অধিকারটি  বজায়  রাখা।  স্ত্রী  যাতে  কখনোই  এমনটা  না  ভাবে যে  আপনি  তার এবং আপনার  মাঝে  একটি  দেয়াল  সৃষ্টি  করে  রেখেছেন।  ঠিক  তেমনি  স্বামী  কেও  দিতে  হবে  স্ত্রী-র   সব  বিষয়ে প্রতি  গ্যাপন  যাতে  করে  স্বামীও  তার  স্ত্রীকে  নিয়ে  এরকমটা  না  ভাবেন।  তার  মানে  আবার  এই  না যে  প্রতিটি মুহূর্তের খবর  দিয়ে  চলা। মৌলিক  কিছু  ব্যাপারের  প্রতি  অবশ্যই  খেয়াল রাখতে হবে।  উদাহরণ  সরূপ  বলা যায় , স্বামী  বাহিরে  যাচ্ছেন  কোথায়  যাচ্ছেন স্ত্রী  কে  বলে  যাচ্ছেন,  এবং  স্ত্রী  তা  শুনে  বিশ্বাস  করলেন।  এইটুকু  বিশ্বাস থাকতেই  হবে।  ঝামেলা  তখনি  হবে  যখন  স্ত্রী তা  শুনে  স্বামীর  পিছু  পিছু  গেলেন  সত্যতা  যাচাই  করতে।  এই ক্ষেত্রে  স্বামীকেও  ওই  ভাবে  চলতে  হবে  যাতে  করে  স্ত্রী  তাকে  নিয়ে  কোন সন্দেহ  না  করেন।  সব  কিছুই নিজেদের  ওপরে  আসলে।

2. উপহার

উপহার

২/  একজন  আর  একজনের  প্রতি  যে  কতটা  খেয়ালি  সেটা  বোঝানো  যেতে  পারে  নানা  রকম  উপহার  সামগ্রি দিয়ে।  সেটা  হতে  পারে  খুবই  সাধারণ  আবার  খুব  দামি।  বেপারটা  নির্ভর  করছে  দুজনের  মনের  উপরে। অনেক  অভাবের  মাঝ্য  স্বামী  তার  স্ত্রীর  জন্য  অর্থ  সংগ্রহ  করে  দামি  কিছু  দিলো,  তখন  স্ত্রী  ব্যাপারটা  দু  ভাবে নিতে  পারে  এক - "আমি  এতটাই  ভাগ্যবতী  যে  আমার  স্বামী  আমাকে  কত  কষ্ট  করে  দামি  উপহারটি  দিলো, জীবন  দিয়ে  যদি  কারো  জন্য  কিছু  করি  তাহলে  এরকম  স্বামীর  জন্য  করবো।  এ  হল  এক  চিন্তা।  আবার এরকম  হতে  পারে  "বাহ্ !  প্রতি  মাসে একটি  করে  বলবো  স্বামীকে  এরকম  উপহার  দিতে।''  সেই ক্ষেত্রে  আমি বলবো  স্বামী যেন  তার  স্ত্রী র  মনটি  কেমন সেটা  বুঝে  উপহারটি  দেন।  তবে  উপহার দেয়াটা একজন  আর একজনের  প্রতি  মায়ার  লক্ষণ  এবং সেটার  তাৎপর্যতা  দুজনকে  বুঝতে  হবে।  শুধু  উপহারটিই  যেন  মূল  বিষয় না  হয়ে  রয়।

৩/  কোন  সমস্যায়  পরলে  একজন  আর  একজনের  একমাত্র  ভরশা  এবিষয়টা  অবশ্যই   মেনে  চলতে  হবে, নতুবা  দুইজন  দুই  দিকে  নির্ভর  করতে  শূরু  করবে এবং এরকম  একটা  মনোভ  সৃষ্টি  হবে যে একজন  আর একজনের  ছাড়াও  চলতে  পারে।  তখন  দুজনের  প্রতি  যে  দুজনের  নির্ভরতা  তা  কমে  যাবে।  তখন  বন্ধন  নাম যে  বিষয়টা  সেটার  আর  থাকবে না।  এইসব  কারণেই  এখনকার  বিবাহ-বিচ্ছেদ  গুলো  ঘটে  থাকে।  স্বামীকে  তার স্ত্রীর  প্রতি এরকম একটি  ধারণা  দিতে  হবে যে সে  তার  স্ত্রীর  জন্য  যথেষ্ট,  আল্লাহ  আমাদের  সহায়  আছেন।  ধর্মীয়  আনুশাষনের  মধ্যে  স্বামী  থাকা  অবস্থায়  স্ত্রী  সব  দায়িত্য  বুঝেনেয়ার  কোন  ইয়াত্তা  নেই  যতদিন  না  পর্যন্ত স্বামী  একেবারে  লাচার  হয়ে  না  পড়েন।  তবে  এখনকার  বেপারটা  আলাদা।  এখন  স্বামী-স্ত্রী  সমান  ভাবে  ঘরে-বাহিরে  কাজ  করছেন,  সেই  ক্ষেত্রে  বলবো  একজন  আর  একজন  এর  উপরে  নির্ভর  করা  ছেড়ে  দিলে  হবেনা, তাহলে  সম্পর্কের  খুঁটিটা  নড়বড়ে  হয়ে  যাবে।

4. পেশা

পেশা

৪/  এরকম  কোন   ধরনের  পেশাকে  বেছে  নিবেন  না  যেটা  করতে  গিয়ে  আপনার  স্ত্রী-সংসার-পরিবার  থেকে আপনি  দূরে  সরে  যান।  এটা   স্ত্রীর  ক্ষেত্রেও।   বাহিরে  কাজ  করা  মানে এই নয় যে  আপনার ঘরের  আর  কোনো খবর নেয়ার দরকার নেই।  স্ত্রীকে  অবশ্যই  আপনার  সময় দিতে হবে  নতুবা  স্ত্রীর  সংসারের  প্রতি  অনীহা  চলে আসতে পারে।  এরকমটা  ঘটে  যদি  স্ত্রীর  বয়সটা  অনেক কম  হয়।  তবুও  মেয়ে  মানুষ  বলে  কথা।  স্বামীর  কাছে  থাকাটা  তার  পছন্দের  কারন  হবে।  আজ  দিনের  শুরুতে  কি  কি  হল  তার  স্বামী  কর্মে  চলে  যাওয়ার  পরে  এই বিষয়  গুলো  স্ত্রী  চাবেন  তার  স্বামীকে  বলতে।  স্বামীকে  অবশ্য  এই  সব ছোট-খাটো  ব্যাপার গুলো খেয়াল  রাখতে হবে।  এবং সমান  তালে  স্ত্রীকেও বুঝতে  হবে  স্বামীর  কর্মব্যস্ততার  জীবন  এবং  ওই  ভাবেই  স্বামীকে  তার  নিজের মত  করে  নিবে।  এটাকে  বলে  সমঝতা।  দুজনকে  করতে  হবে  সমান  তালে।

5. সভাব পরির্বতন

সভাব পরির্বতন

৫/  একজন  আর  একজনের  প্রতি  ভালোবাসা- শ্রদ্ধা  রেখে  নিজেদের  খারাপ  সভাব  পরির্বতন  করা  ভাল জিনিস।  কিন্ত  নিজের  মূল  নীতি  পরিবর্তন  করাটা  প্রয়োজন  নহে।  কোন  মানুষই  পৃথিবীতে  পরিপূর্ন  নয়।  ভুল সবার মধ্যে আছে।  কিন্ত  সাংসারিক  জীবনে  একজন  আর  একজনের  জন্য  নিজেদের  খারাপ  স্বভাবগুলো পরিবর্তন  করাটাকেই  সম্পর্কের  স্বায়িত্ত  বজায়  রাখে।  এখন এই পরিবর্তন  হতে  পারে  অনেক  রকম।  স্বামীর ক্ষেত্রে  পরিবর্তন  হতে  পারে  একজন  ধূমপায়ী  স্বামী  বিবাহের  পর  স্ত্রীর  কথাই  ধূমপান  করা  ছেড়ে  দিলো। একটি মেয়ে  বিয়ের  আগে  খুব  সাজ-গুজ  করতো।  কিন্ত  বিয়ের  পর  তার  জীবন  সঙ্গীটি  তার  সাজ-গুজটি পছন্দ  করছে  না  এবং এর  কারন হল মেয়েটিকে সাজ-গুঁজে  এ  যতটুকু  না ভালোলাগে  তার  চেয়ে বেশি ভালোলাগে  তার  সাজ  ছাড়া  মুখটি।  তো সে ক্ষেত্রে  এখানে মেয়েটির পরিবর্তন  হওয়াটা  সুন্দর এর পরিচয়।  এই পরিবর্তন  গুলো  একজন  আর  একজনের  প্রতি  মায়া-ভালোবাসার  পরিচয়।  এগুলো  যদি  মেনে  চলা  যায় তাহলে  প্রতিটা  সাংসারিক  জীবন  হবে  সুখের।

সাংসারিক জীবনে সমঝতা না থাকলে পোহাতে হয় নান ঝামেলা। কিছু বিষয় কখনোই ঘটতে দেয়া যাবেনা যা তে করে বিবাহিত জীবন সব সময় সুখের হয়।