যদি আপনি কোন নৈতিক, পরিবেশগত, স্বাস্থ্য, বা সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণের জন্য কম মাংস খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে সেটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নটি হতে পারে বেশ কষ্টসাধ্য।তবে কিছু উপায় মেনে চললে আসা করি কাজটি করা আপনার পক্ষে সহজ হবে।
যারা মাংস খাওয়া ত্যাগ করতে চান শুধু তাদের জন্য!
190
views

1. মাংস ভোজন কমানোর অভ্যাসটি আপনাকে এমভাবে শুরু করতে হবে যাতে সেটি আপনার কাছে প্রকৃতপক্ষেই কার্যকর বলে মনে হবে এবং আপনি সেটি নিয়মিত পরিচালনা করতে পারবেন।

মাংস ভোজন কমানোর অভ্যাসটি আপনাকে এমভাবে শুরু করতে হবে যাতে সেটি আপনার কাছে প্রকৃতপক্ষেই কার্যকর বলে মনে হবে এবং আপনি সেটি নিয়মিত পরিচালনা করতে পারবেন।

খুব কার্যকরী একটি উপায় হতে পারে যে – আপনি মাংস শুধু তখনই খাবেন যখন আপনি বাহিরে কোথাও খেতে যাবেন বা বাসায় বাহিরের খাবার অর্ডার করবেন। এছাড়া কখনই বাজার থেকে মাংস কিনে এনে ঘরে রান্না করে খাবেন না। জীবন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে সুতরাং এটাও বেশ স্বাভাবিক যে আপনার খাদ্যাভ্যাসও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হবে। নিজেকে কখনোই অতিরিক্ত চাপ দেবেন না যদি আপনি মাংস খাওয়া কমাতে না পারেন। যদি খুব ইচ্ছে হয় তবে খেয়ে ফেলুন এবং তারপর আবার কম খাওয়ার চেষ্টা শুরু করুন। এভাবেই সম্ভব। 

2. প্রতিদন ই ঘুমানোর আগে একটি পরিকল্পনা করে রাখুন, আগামীকাল আপনার খাবার মেন্যু কি হতে পারে।

প্রতিদন ই ঘুমানোর আগে একটি পরিকল্পনা করে রাখুন, আগামীকাল আপনার খাবার মেন্যু কি হতে পারে।

তারপরএমন কিছু মাংসবিহীন খাবার রেসিপির সন্ধান করুন যেগুলো আপনি খুব সহজেই রান্না করে ফেলতে পারবেন। 

3. রাতের তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলুন এমন সব খাবার যাতে মাংস আছে।

রাতের তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলুন এমন সব খাবার যাতে মাংস আছে।

আপনার নিয়মিত রাতের খাবারের তালিকায় যেগুলোতে মাংস রয়েছে সেগুলোকে কিভাবে মাংসবিহীন করা যায় সেই উপায় খুজে বের করুন। বাড়িতে তৈরি আপনার প্রিয় খাবারটি যতই মুরগীর বুকের পাশের স্টেক হোক না কেন, অবশ্যই কোথাও না কোথাও তার কোন নিরামিষ পন্থা রয়েছেই।

4. এমন খবার আছে যেগুলো মাংসের বিকল্প

এমন খবার আছে যেগুলো মাংসের বিকল্প

মাংসের বিকল্প কিছু খুজে বের করুন যা আপনার মাংস খাওয়ার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। 

5. আপনার এলাকার নিরমিষ খাবারের রেস্তরাগুলোতে যাতায়াত করুন

আপনার এলাকার নিরমিষ খাবারের রেস্তরাগুলোতে যাতায়াত করুন

যখন বাহিরে কোন রেস্তোরায় খাবেন তখন চেষ্টা করুন নিরামিষ খাবার অর্ডার করতে। রেস্তোরার যে নিরামিষ খাবারগুলো আপনার ভালো লাগবে সেগুলোর উপকরণগুলো চাইলে নোট করে নিতে পারেন যাতে আপনি বাসায়ও সেই খাবারগুলো চট করে রেধে খেতে পারেন। 

6. আপনার খাদ্য প্রণালিতে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু আমিষের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করুন

আপনার খাদ্য প্রণালিতে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু আমিষের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করুন

আপনার শরীরে কি পরিমাণ আমিষের প্রয়োজন তা নির্ভর করছে আপনার ওজন এবং আপনি দৈনন্দিন জীবনে কতটুকু সক্রিয় তার উপর। সুতরাং, আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় আমিষের পরিমাণটি জেনে নিন। আমিষভোজীদের জন্য ডিম, পনির, টফু, কালো মটরশুটি, চিনাবাদামের মাখন, মরিচ এবং গ্রীক দই হচ্ছে সবচেয়ে প্রচলিত আমিষের উৎস। অনলাইন থেকে আপনি চাইলে মাংস বিহীন আমিষ জাতীয় খাদ্য তালিকার সন্ধান করতে পারেন।

7. বাড়ির কাঁচাবাজার করার সময় যথাসম্ভব কম মাংস ক্রয়ের চেষ্টা করুন

বাড়ির কাঁচাবাজার করার সময় যথাসম্ভব কম মাংস ক্রয়ের চেষ্টা করুন

যদিও এ কাজটি শুনতে বেশ সহজ লাগছে কিন্তু মাংস বিহীন প্রথম কিছু পথচলা আপনার কাছে অনেকটাই উদ্ভট মনে হতে পারে। হয়ত মনে মনে ভাবতে পারেন যে – “এটাও কি সম্ভব?!” মাংস কম কিনলেন মানে মাংস কম খেলেন। হিসেবটা বেশ সহজই বটে। সুতরাং, আপনার বাজার তালিকা থেকে বেশকিছু মাংস জাতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলুন এবং সেগুলোর স্থানে সবজি, ডিম, টফু বা মাংসের বিকল্প হতে পারে এমন খাদ্যদ্রব্যগুলোকে জায়গা দিন। 

8. বাড়িতে অতিথিদেরকে শাকসবজি দিয়ে মাছ বা বিভিন্ন প্রকার ভর্তা

বাড়িতে অতিথিদেরকে শাকসবজি দিয়ে মাছ বা বিভিন্ন প্রকার ভর্তা

এই জাতীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করুন। যদিও এজাতীয় খাবারগুলো রান্না করার ক্ষেত্রে আপনি একটু খুতখুতে অনুভব করতে পারেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনি এগুলো বেশ দ্রুত সেরে ফেলতে পারবেন এবং সেটি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে দিতে পারবেন। আপনি এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনার অতিথিরা এই খাবারগুলো গ্রহণের পর মাংসের অভাব একটুও বোধ করবে না। একবার চেষ্টা করেই দেখুন না! 

9. আপনি এমন কিছু সঙ্গী করে নিতে পারেন যারা মাংসভোজী না বা খুব কম মাংস খায়

আপনি এমন কিছু সঙ্গী করে নিতে পারেন যারা মাংসভোজী না বা খুব কম মাংস খায়

তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের মাংসবিহীন খাবারের রেসিপি নিন। বিভিন্ন রকমের রান্নার কৌশল এবং নিরামিষ রেস্তোরার সুপারিশ গ্রহণ করুন।

10. সবশেষে, অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আপনি কেন মাংস কম খেতে চান

সবশেষে, অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আপনি কেন মাংস কম খেতে চান

যে কারনেই হোক না কেন, আপনি যদি সর্বদাই এটি মাথায় রাখেন যে আপনি আসলে কেন মাংস খাওয়া কমাতে চাচ্ছেন তাহলে এই পথের যাত্রাটি আপনার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, এই শরীরটি আপনার নিজের; সুতরাং একে কিভাবে খাদ্যগ্রহণ করাবেন সেতির সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার উপর নির্ভর করে। 

ভাল থাকুন, সুস্ত থাকুন। বাংলদেশ অনলাইন নিউজের সাথেই থাকুন।

YOUR REACTION?

Facebook Conversations