বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত।

ধর্ম।

সরকার আসন্ন টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করেছে। এর কারন জাতীয় নির্বাচন এবং তাবলিগ জামাতের দুপক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে এবছর বিশ্ব ইজতেমা হবে না। একই সাথে তাবলিগের দুই পক্ষের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তারা কোনও জোড় (জমায়েত), ওজহাতি জোড় (স্পষ্টকরণ জমায়েত) কিছুই করতে পারবেন না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগ জামাতের বিবাদমান সাদ কান্ধলভি ও দেওবন্দপন্থী দুপক্ষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুপক্ষই জানুয়ারিতে পৃথক তারিখে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছিল। ভারতের তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে তাবলিগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারত যাবে বলে জানা গেছে।

জানাগেছে, টঙ্গী ময়দানে আসন্ন ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ৫ দিনের জোড় এবং আগামী ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ৩ দিনের বিশ্ব ইজতেমা করার ঘোষণা দেন দিল্লির নিজামুদ্দিন বিশ্ব মার্কাজের অনুসারী তাবলীগ সাথীরা।

হেফাজতের আল্লামা আহমদ শফির নেতৃত্বাধীন দেওবন্দপন্থী কওমি মাদ্রাসার সাথীরা পাল্টা বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন। তারা ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ জোড় এবং জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। দুই গ্রুপ হুমকি-পাল্টা হুমকি দিতে থাকে। তাবলিগ জামাতের ইতিহাসে এই প্রথম ইজতেমা ও জোড়ের তারিখ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

ইজতেমা স্থগিত প্রসঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে তাবলিগের জামাতের মধ্যে চরম বিরোধ রয়েছে। এসব বিবেচনায় তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল ভারত যাবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবেন।নির্বাচন শেষ হলে দুপক্ষ বসেই নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারে।