ফুসফুস, আপনার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, কিন্তু এটি সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে আপনি কতটুকুই বা জানেন?

বেশিরভাগ মানুষেরই ধারনা যে ফুসফুস শুধুমাত্র নিশ্বাস নেবার জন্যই ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এর বাইরেও ফুসফুসের কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো অনেকেরই জানা নেই। এটাই আপনার সুযোগ আপনার বন্ধুদেরকে ফুসফুস সম্পর্কে কিছু নতুন তথ্য জানিয়ে তাদেরকে আপনার জ্ঞ্যানের ভাণ্ডার সম্পর্কে চমকে দেওয়ার।
আপনার ফুসফুস সম্পর্কে বিস্ময়কর কিছু তথ্য।
260
views

১। আপনার কি মনে হয় আপনি কখনই নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ করেন না? হ্যাঁ, ঠিকই মনে হয়। কারন, আপনি আসলেই কখনও নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ করেন না। একজন মানুষ সচরাচর প্রতি মিনিটে ১৩ বার বাতাসের নিশ্বাস নিয়ে থাকে।

২। মানুষের দুটি ফুসফুসের আকার সমান নয়। যদি আপনি ভেবে থাকেন যে ফুসফুস দুটি দেখতে একদম একটি আরেকটির অবিকল প্রতিফলন তবে আপনি এতদিন অব্দি ভুল ভেবে আসছেন। ফুসফুসের ডান দিকটি বামের চেয়ে সামান্য বড়, এবং হৃদযন্ত্রের কারণেই এর আকৃতি এমনটি করা হয়েছে।

৩। ডান ফুসফুসের তিনটি খণ্ড রয়েছে, আর বাম ফুসফুসের রয়েছে মাত্র দুটি। এর ফলেই আপনার ফুসফুসের ২ পাশের আকৃতি ভিন্ন।

৪। আপনার ফুসফুস মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনার মস্তিষ্কই আপনার ফুসফুসকে বলে দিবে কতটুকু শ্বাস-প্রশ্বাস ভেতরে নিতে হবে এবং কতটুকু বাহিরে ছাড়তে হবে, সেই কারণে আপনি নিজস্ব কোন ইচ্ছা বা চেষ্টা ছাড়াই আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তনগুলি অনুভব করবেন।

৫। শুধুমাত্র একটি ফুসফুসের মাধ্যমেই সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। যদিও শারীরিক শ্রম বা ব্যাম করার সময় আপনি কিছুটা সমস্যা বোধ করবেন কিন্তু যত বেশি আপনি নিজেকে এসব কাজে জড়াতে থাকবেন ধীরে ধীরে তত কম সমস্যা অনুভব করতে থাকবেন।

৬। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় ফুসফুসের একটি অনন্য বিষয় হচ্ছে যে এরা জলে ভাসতে পারে। আপনার শরীরের অন্য কোন অঙ্গের এই বৈশিষ্ট্য নেই। এর কারন হচ্ছে, আপনি নিশ্বাস ত্যাগ করার পরেও আপনার ফুসফুস সর্বদাই তাদের মধ্যে এক লিটার পরিমাণ বাতাস ধারণ করে রাখে।

৭। আপনি হয়ত ভাবছেন, ফুসফুস আপনার বুকের ভেতর অবস্থিত অনেক ছোট একটি অঙ্গ। কিন্তু আসলে ফুসফুস বেশ বড় একটি অঙ্গ। যদি আপনি তাদের বের করে পুরোপুরি ছড়িয়ে দেন তবে তারা একটি সম্পূর্ণ টেনিস কোর্টকে ঢেকে দেবে।

৮। আপনি যখন শ্বাস নিচ্ছেন, তখন আপনার শরীর কেবলমাত্র ৫% অক্সিজেন ব্যবহার করে যা আপনি ভেতরে নিয়েছেন। বাকিটুকু বের করে দেয় এবং এই চক্র পুনরাবৃত্তি হয়।

৯। প্রতি ঘণ্টায় আপনি প্রায় ১৭ মি.লি. সমপরিমাণ পানি শ্বাস-নিশ্বাসের মাধ্যমে নির্গত করে থাকেন। 

১০। শ্বাস ছাড়াও, আপনার ফুসফুস আরও কিছু কাজ করে থাকে। শ্বাসের মাধ্যমে, ফুসফুস আপনার শরীরের প্রায় ৭০% বর্জ্য পরিত্রাণ করে দেয়।

১১। শ্বাস নেওয়া ছাড়াও, কথা বলার ক্ষেত্রে ফুসফুস বেশ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। ল্যারিনক্স, বা শব্দ থলি, বায়ু পাইপের উপরে অবস্থিত। এইভাবে ফুসফুস থেকে শব্দ থলির মাধ্যমে বাতাসকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সেই শব্দটি কথায় রুপান্তরিত হয়। 

১২। ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে ধূমপান। ফুসফুস ক্যান্সারের মাধ্যমে ঘটিত মৃত্যুর শতকরা ৮০ ভাগই ঘটে থাকে ধূমপানের কারনে।

১৩। আপনি যদি অধূমপায়ী হন এবং নিয়মিত ব্যামও করেন তবুও আপনার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে যদি আপনার আবাসস্থল বা কর্মস্থলের প্রচুর পরিমাণে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে। 

১৪। জেনে আনন্দিত হবেন যে, নানাবিধ দূষণ থেকে আপনার শরীরকে মুক্ত রাখতে ফুসফুসের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া রয়েছে।   

১৫। সর্বদাই এটা ভাববেন না যে, কাশি হওয়া মানেই হচ্ছে আপনার ফুসফুসের কোন সমস্যা। এটি অন্য কোন কারনেও হতে পারে। একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ১০ বারের মত কাশি দেওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

YOUR REACTION?

Facebook Conversations