রহস্যের মায়াজালে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল।

জানা অজানা।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল,

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল,

পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময় কর জায়গা,যাকে শয়তানের ত্রিভুজ বলেও আখ্যায়িত ও করা হয়।ত্রিভুজ আকৃতির এই স্থানটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।এখন পর্যন্ত অনেক উড়োজাহাজ এবং জাহাজ আলৌকিক ভাবে হারিয়ে গেছে এই ট্রায়াঙ্গল এর ভিতর,যার অস্তিত্ব এখন অব্দি পাওয়া যায়নি।অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে এসব ঘটনার পিছনে।

কেউ ধারনা করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ,বা চালকের ভুল বা এখন আরেক ধরনের ধারনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তা হল এখানে এলিয়েন এর বাস আছে। আদৌ কোন ঘটনা সত্যি তা এখন অব্দি জানা যায়নি।আর লেখকদের রংমাখানো লেখনি এই জায়গা টিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।

এই ত্রিভুজ এর উপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর এর উষ্ণ হাওয়া বয়ে যায়।

এই ত্রিভুজ এর উপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর এর উষ্ণ হাওয়া বয়ে যায়।

এখানকার আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তন হয়।এখনি শান্ত,সাথেসাথেই তীব্র স্রোত সহ ঘুর্নিঝড়ের সৃষ্টি হয়।সাধারণত লেখকের ভাষায় এটি ট্রাপিজিয়াম আকৃতির।

এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে সর্বপ্রথম লিখেন ক্রিস্টোফার কলোম্বাস।তার ভাষ্যমত এই ত্রিভুজ আকৃতির জায়গায় নাবিকরা প্রচুর আলো,ধোয়া দেখতে পায়।আর এখানে কম্পাসের এর দিক নির্ধারিত হয়না।তিনি ১৪ ই অক্টোবর, ১৪৯২ সালে তার লগ বুকে এটা লেখেন।

ফ্লাইট নাইটিনাইন নামক একটি প্লেন বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এ পাঠানো হয়।এর কাছাকাছি যেয়ে উপস্থিত মানুষ গুলোর ভাষ্য ছিল,সেখানে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না,কিন্তু পানির রং ছিল সবুজ বর্নের।চারদিক শুধু সবুজ।ফ্লাইট এর ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বানানো হয়।এর উপর ভিত্তি করে লেখকরা আরো মশলা দিয়ে আরো বাড়িয়ে বাড়িয়ে লেখা শুরু করেন।আর মানুষ তাই ই ভাবা শুরু করেন।

কন্টিনেন্টাল সেলভে জমে থাকা মিথেন হাইড্রেট ই জাহাজ ডুবির আসল কারন বলে বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন।বাতাসের বুদবুদ এর ঘনত্ব কমা শুরু করে মিথেন বের হয়া শুরু হয়,এবং মিথেন হাইড্রেট পানির প্লাবতার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং তখন কোন সর্তকতা সংকেত ছাড়াই জাহাজ ডুবি হয়।

ইসলামের মতবাদ অনুসারে।

ইসলামের মতবাদ অনুসারে।

ইসলামের দৃষ্টিতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্যা দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

 • এখানে খারাপ জ্বীনদের উপস্থিতি আছে।

 • এখানেই মসিহ উদ দজ্জ্বাল এর বাসস্থান।

প্রথম ধারনা অনুযায়ী খারাপ জ্বীন সমূহ শয়তানকে মেনে চলে এবং এর জন্যই হারিয়ে যাওয়া জাহাজ বা প্লেন এর কোন অস্তিত্ব থাকেনা।

আর দ্বিতীয় ধারনা অনুযায়ী, দজ্জ্বাল এর বাসস্থান হতে পারে এটি।হযরত তামিম দাবির এর মতবাদ অনুযায়ী,দজ্জ্বাল সমুদ্রে হারিয়ে যায় এবং একটি দ্বীপে স্থান নিবে।হয়তো বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ই উক্ত দ্বীপ। 

আর বিজ্ঞানীরা মিথেন বুদবুদ এর যে ধারনা দিয়েছেন তার খানিকটা হয়তো সত্য কিন্তু পুরাপুরি নয়।হয়তো বুদবুদ এর কারনে জাহাজ ডুবি হয়,কিন্তু উড়ন্ত প্লেন কিভাবে এই পানিতে ডুবে যায়!!আর এদের অস্তিত্ব কিভাবে বিলীন হয়ে যায়। যতই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা হচ্ছে,এটি আরো রহস্যময় হচ্ছে।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল