৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হলো

দুদুক এর করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়, ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত হলে বেগম জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিদের দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে কারাদণ্ড । আজ ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান এ রায়ের মদ্ধে দিয়ে টা বাস্তবায়ন হয় । আনুমানিক বেলা সোয়া ২টার দিকে আদালত হাজির হন বেগম  খালেদা জিয়া। এসময় তার সঙ্গে বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতারা সাথে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি হলো কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। ওই বছরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, , ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আর তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এখন পলাতক অবস্থায় রয়েছে।

যে ২ ধারায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালনা হয়েছে সেগুলো হলো,বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও দুদক আইনের ৫(২) ধারা। দণ্ডবিধির ৪০৯ এ বলা আছে, ‘যে ব্যক্তি তাহার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি বা প্রতিভূ হিসাবে তাহার ব্যবসায় ব্যাপদেশে যে কোনও প্রকারে কোনও সম্পত্তি বা কোনও সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হইয়া সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’ দুদক আইনের ৫ (২) ধারা অনুযায়ী, ‘কোন সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হইবেন।’

দীর্ঘ এই বিচার প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে রেহাই পেতে খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেছেন অনেকবার। তার অনাস্থার কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩বার এ মামলার বিচারক বদল করা হয়েছে। পরে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা শুরু হয়। একই বছরের ৭ মে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে এ দু’টি মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে স্থানান্তর হয়েছে। বেগম জিয়া জেল যাওয়ার আগে জাতির উদ্দেশে বলেন কোন কিছু বিনিময়ে মাথা নত করবো না, দেশ এর মানুষ আমার সাথেই আছে। 

 

খালেদা জিয়া ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হলো