সেন্টমার্টিনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা।

দেশের খবর।

কক্সবাজার এর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ।প্রতি দিনে গড়ে প্রায় বিশ হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে এই দ্বীপে।অনেক হোটেলের সমাহার আছে দ্বীপে রাত কাটানোর মত।কিন্তু আগামী ১মার্চ থেকে সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর উপর সম্পূর্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।গত ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গত ৯ ই সেপ্টেম্বর এ আন্তঃমন্ত্রণালয় এর এক বৈঠকে প্রথম সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্যর ধ্বংস নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং ২৩ সেপ্টেম্বর উক্ত সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।

প্রতিদিন এত পর্যটক এর ফলে এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্যর দিন দিন ধ্বংসের মুখে পরে যাচ্ছে।সমুদ্রসৈকত ভাঙ্গনের ফলে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে,ফলে প্রবাল গুলো দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।তাছাড়া এই দ্বীপে গাড়ি,মোটরগাড়ি, স্প্রিডবোট চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।রাতের বেলায় লাইট জ্বালানোর ফলে কচ্ছপ এর প্রজনন এ সমস্যা হচ্ছে,ফলে রাতের বেলা পর্যটক থাকা নিষেধ।

প্রতিদিন প্রায় বিশটি জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপ আসাযাওয়া করে,এখন থেকে মাত্র দুইটি জাহাজ আসাযাওয়া করবে ৫০০ যাত্রী নিয়ে।সমস্ত হোটেলগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের সমস্ত কিছু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে,নাইলে সব উচ্ছেদ করা হবে।জেনারেটর চালানো সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যাবে এবং সৌরশক্তিতে সব চলবে।

প্রতিদিন প্রায় বিশ হাজার পর্যটক এর চাহিদা সামলাতে যেয়ে দ্বীপ টা প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে।ভূগর্ভ এর পানি প্রায় শেষ।ভূগর্ভ এর  গর্তে সমুদ্রের লোনাপানি ঢুকলে এই দ্বীপ বিলীন হয়ে যাবে।এইকারনে সেন্টমার্টিন উপকূল বাসীদের ও অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।এত পর্যটকের বর্জ্য আর মলমূত্রের কারনে এখানে ভূপৃষ্ঠ অপেক্ষা প্রায় ১০ গুন বেশী ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এই সেন্টমার্টিন।প্রায় ৬৮ প্রজাতির প্রবাল আছে এখানে।১৫১ প্রকার শৈবাল,১৯১ প্রজাতির কড়ি জাতীয় প্রানী,৪০ প্রকারের কাকড়া,২৩৪ প্রকার সামুদ্রিক মাছ,চার প্রজাতির উভচর,২৮ প্রকারের সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বাস এই উপকূলে।এত সংখ্যক পর্যটক এর কারনে এই দ্বীপ প্রায় ধ্বংস প্রায়।এখন থেকে ওইখানে কোন হোটেল বা অন্য স্থাপনা তৈরী হতে পারবেনা,কেউ ওইখানে কোন জমি কেনাবেচা করতে পারবেনা।

সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে তা বলা মুশকিল, কিন্তু দেশের জীববৈচিত্র্যা রক্ষায় তা অত্যাবশ্যক।