রক্তের কালিতে লেখা হয়েছিল মহান ২১ ফেব্রুয়ারি

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন সেইসকল ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা

আজ থেকে ৬৬ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে  বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। যা বিশ্ব বাসির কাছে মহান এক আত্ম ত্যাগের ইতিহাস।

 ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই বঞ্চিত ও শোষিত পূর্ব-পাকিস্তানের জনগোষ্ঠী নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য ১৯৪৭ সাল থেকে বাংলার মানুষ সংগ্রাম শুরু করে তা বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে চূড়ান্তরূপ লাভ করেছিল ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী । তবে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো দীর্ঘ ৫টি বছর।

আজ সরকারি ছুটির দিন। দেশের সর্বত্রই আজ প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদদের স্মৃতির প্রতি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

হাতে হাতে থাকবে সবার বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক

হাতে হাতে থাকবে সবার বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক

হাতে হাতে থাকবে সবার বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক, কণ্ঠে থাকবে অম্লান সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি...’ ধীর পায়ে এগিয়ে যাবে আবাল বৃদ্ধবনিতা। ভাষা শহীদদের প্রতি নিবেদিত শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ঢেকে যাবে শহীদ মিনারের বেদি। 

তোমাদের ঋণ শোধ হবে না কভু

তোমাদের ঋণ শোধ হবে না কভু

ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ বরকত-রফিক-সালাম-জব্বারকে বাঙালি জাতি ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। তাঁদের সাহসী ভূমিকা ও গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগের ফলেই   পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়, রক্ষা পায় বাংলা ভাষার অনন্য গৌরব।

১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির শুরু হয় প্রভাতফেরীর আনুষ্ঠানিকতা

১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির শুরু হয় প্রভাতফেরীর আনুষ্ঠানিকতা

১৯৫৩ সালে কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় কর্মপরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি স্মরণে শহীদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন তখনকার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেন। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সর্বস্তরের মানুষ খালি পায়ে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ মিনারে গিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। সারাদিন মানুষ শোকের চিহ্নস্বরূপ কালো ব্যাজ ধারণ করেন। দিন উপলক্ষে সে সময় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় প্রভাতফেরীর আনুষ্ঠানিকতা। 

ইউনেস্কো ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনা করে

ইউনেস্কো ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনা করে

১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সাধারণ সম্মেলনে রুটিন বিষয় হিসেবেই গৃহীত হয়। ৪ জানুয়ারি ২০০০ তারিখে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক কাইচিরো মাটসুরা এক চিঠিতে ইউনেস্কোর সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি তখন থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানান।ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু মাতৃভাষার জন্য আমাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকেই স্বীকৃতি দেয়নি, অমর একুশের শহীদদের আত্নদান থেকে উৎসারিত স্বাধীনতা আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনকেও মর্যাদা দিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের পৃথিবীর বুকে মহিমান্বিত করেছে। বিশ্বের ১৯০টি দেশে এখন প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে।

১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সাধারণ সম্মেলনে রুটিন বিষয় হিসেবেই গৃহীত হয়। ৪ জানুয়ারি ২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে সারা পৃথিবীতে।

২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮