বাংলার সাহিত্যিকদের নাম ও তাদের সম্পর্কের কিছু তথ্য

বাংলার মানুষ বাঙালি জাতি যত দিন রবে ঠিক তোত দিন মনে রাখবে তাদের অবদান

কাজী নজরুল ইসলামঃ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলামঃ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম

তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর সব থেকেঅন্যতম ওজনপ্রিয়  বাঙালি মানুষের প্রানের কবি, যদি দিন থাকবে এই বাঙলা এই বাঙালি তোত দিন থাকবে এই মহান মানুষটির নাম। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। 

বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন নজরুল। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ –দুইবাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। 

তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। 

যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই "বিদ্রোহী কবি", তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে।

তার  ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল এখনও মানুষের মনে গেঁথে আছে,  তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন। নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা "নজরুল গীতি" নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়।মধ্যবয়সে তিনি পিক্‌স ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন। এসময় তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবিতামূল নিবন্ধ: নজরুলের কবিতা১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের জন্ম দেন। এই দুটি হচ্ছে বিদ্রোহী কবিতা ও ভাঙ্গার গান সঙ্গীত। এগুলো বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। বিদ্রোহী কবিতার জন্য নজরুল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

 নজরুল এর পরপর এর কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের সবচেয়ে সাড়া জাগানো কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে: "প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, শাত-ইল্‌-আরব, বিদ্রোহী, কামাল পাশা" ইত্যাদি। এগুলো বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তাঁর শিশুতোষ কবিতা বাংলা কবিতায় এনেছে নান্দনিকতা খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু ইত্যাদি তারই প্রমান। কবি তার মানুষকবিতায় বলেছিলেন:পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনতিনি কালী দেবিকে নিয়ে অনেক শ্যামা সঙ্গিত রচনা করেন, ইসলামী গজলও রচনা করেন।সঙ্গীতমূল নিবন্ধ: নজরুলগীতি নজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। নজরুলের গান নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত।

গদ্য রচনা, গল্প ও উপন্যাস নজরুলের প্রথম গদ্য রচনা ছিল "বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী"। ১৯১৯ সালের মে মাসে এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেছিলেন। এখান থেকেই মূলত তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল। এখানে বসেই বেশ কয়েকটি গল্প লিখেছেন। 

এর মধ্যে রয়েছে: "হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে"। ১৯২২ সালে নজরুলের একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয় যার নাম ব্যথার দান- এছাড়া একই বছর প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী প্রকাশিত হয়।

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নজরুল তাঁর একটি গানে লিখেছেন, "মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই":- কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ঃ ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ - ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮) তিনি হলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক। তার সাহিত্যকর্মের জন্যে পাঠকের কাছে তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে কথিত হন

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ঃ ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ - ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮) তিনি হলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক। তার সাহিত্যকর্মের জন্যে পাঠকের কাছে তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে কথিত হন

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের প্রেসিডেন্সি বিভাগের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায় ও মাতার নাম ভুবনমোহিনী দেবী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শরৎচন্দ্র ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর দিদি অনিলা দেবী ছাড়াও প্রভাসচন্দ্র ও প্রকাশচন্দ্র নামে তাঁর দুই ভাই ও সুশীলা দেবী নামে তাঁর এক বোন ছিল। দারিদ্র্যের কারণে মতিলাল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভাগলপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন বলে শরৎচন্দ্রের শৈশবের অধিকাংশ সময় এই শহরেই কেটেছিল।

তার উপন্যাস  বড়দিদি, ১৯১৩বিরাজবৌ, ১৯১৪ পন্ডিতমশাই, ১৯১৪পল্লী-সমাজ, ১৯১৬চন্দ্রনাথ, ১৯১৬শ্রীকান্ত-প্রথম পর্ব, ১৯১৭দেবদাস, ১৯১৭ চরিত্রহীন, ১৯১৭দত্তা, ১৯১৮শ্রীকান্ত-দ্বিতীয় পর্ব, ১৯১৮গৃহদাহ, ১৯২০ বামুনের মেয়ে, ১৯২০ দেনা পাওনা, ১৯২৩ নব-বিধান, ১৯২৪পথের দাবী, ১৯২৬ শ্রীকান্ত-তৃতীয় পর্ব, ১৯২৭শেষ প্রশ্ন, ১৯৩১ শ্রীকান্ত-চতুর্থ পর্ব, ১৯৩৩ বিপ্রদাস, ১৯৩৫ শুভদা, ১৯৩৮

নাটক ষোড়শী, ১৯২৮, রমা, ১৯২৮, বিরাজ বউ, ১৯৩৪, বিজয়া, ১৯৩৫

তার লেখা গল্পঃ রামের সুমতি ১৯১৪,পরিণীতা ১৯১৪, বিন্দুর ছেলে ১৯১৪,পথ-নির্দেশ ১৯১৪ ,মেজদিদি ১৯১৫,আঁধারে আলো ১৯১৫,দর্পচূর্ণ ১৯১৫,বৈকুণ্ঠের উইল ১৯১৬,অরক্ষণীয়া ১৯১৬,নিষ্কৃতি ১৯১৭,কাশীনাথ ১৯১৭,স্বামী ১৯১৭,ছবি ১৯২০,বিলাসী ১৯২০,মামলার ফল ১৯২০, হরিলক্ষ্মী ১৯২৬, মহেশ ১৯২৬, অভাগীর স্বর্গ ১৯২৬, অনুরাধা ১৯৩৪, সতী ১৯৩৪, পরেশ ১৯৩৪, রামের সুমতি ১৯১৪, পরিণীতা ১৯১৪, বিন্দুর ছেলে ১৯১৪, পথ-নির্দেশ ১৯১৪, মেজদিদি ১৯১৫, আঁধারে আলো ১৯১৫, দর্পচূর্ণ ১৯১৫, বৈকুণ্ঠের উইল ১৯১৬,অরক্ষণীয়া ১৯১৬, নিষ্কৃতি ১৯১৭,কাশীনাথ ১৯১৭,স্বামী ১৯১৭, ছবি ১৯২০,বিলাসী ১৯২০,মামলার ফল ১৯২০, হরিলক্ষ্মী ১৯২৬, মহেশ ১৯২৬, অভাগীর স্বর্গ ১৯২৬,অনুরাধা ১৯৩৪, সতী ১৯৩৪, পরেশ ১৯৩৪।

তার প্রবন্ধঃ নারীর মূল্য, তরুণের বিদ্রোহ ১৯১৯, স্বদেশ ও সাহিত্য ১৯৩২, স্বরাজ সাধনায়। নারীশিক্ষার বিরোধ, স্মৃতি কথা, অভিনন্দন, ভবিষ্যৎ, বঙ্গ-সাহিত্য, গুরু-শিষ্য সংবাদ, সাহিত্য ও নীতি, সাহিত্যে আর্ট ও দুর্নীতি,ভারতীয় উচ্চ সঙ্গীত।

ইমদাদুল হক মিলন (জন্ম সেপ্টেম্বর৮, ১৯৫৫)

ইমদাদুল হক মিলন (জন্ম সেপ্টেম্বর৮, ১৯৫৫)

বাংলাদেশের একজন সফল কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি গল্প,উপন্যাসএবং নাটক এই তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়েছেন। কিশোরবাংলা নামীয় পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তার সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ। ১৯৭৭ খৃস্টাব্দে সাপ্তাহিকবিচিত্রা পত্রিকায় '‍সজনী‌'‍ নামে একটি ছোট গল্প লিখে পাঠকের দৃষ্টিআর্কষণ করতে শুরু করেন।

তিনি আসলে লেখক হিসেবে এপার-ওপার দুই বাংলায়ই তুমুল জনপ্রিয়। দুই বাংলায়ই তার 'নূরজাহান' উপন্যাসটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। 

তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ২ শতঃ অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকাজল, নিরন্নের কাল, পরবাস, কালোঘোড়া, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, পর, কেমন আছ, সবুজপাতা, জীবনপুর প্রভৃতি তার বিখ্যাত বই।

তার লেখা অন্যতম নাটক গুলো হচ্ছেঃ রূপনগর, কোন কাননের ফুল, বারো রকম মানুষ,  যুবরাজ, কোথায় সেজন, আলতা, একজনা, নীলু, তোমাকেই, ছোছা কদম, আঁচল, খুঁজে বেড়াই তারে, কোন গ্রামের মেয়ে, তাছাড়া ধারাবাহিক নাটক রূপনগর ও মেয়েটি এখন কোথায় যাবে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

·        ১৯৮৬: বিশ্ব জ্যোতিষ সমিতি পুরস্কার।

·        ১৯৮৭: ইকো সাহিত্য পুরস্কার।

·        ১৯৯২: হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার।

·        ১৯৯২ : বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

·        ১৯৯৩: পূরবী পদক।

·        ১৯৯৪: বিজয় পদক।

·        ১৯৯৫: মনু থিয়েটার পদক।

·        ১৯৯৫: যায়যায়দিন পত্রিকা পুরস্কার।

·        ১৯৯৬: ঢাকা যুব ফাউণ্ডেশন পদক।

·        ২০০২: বাচসাস পুরস্কার।

·        ২০০৪ :জিয়া শিশু একাডেমী কমলপদক।

·        এস এম সুলতান পদক

·        জাপান রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড

·        মাদার তেরেসা পদক

এছাড়াও, কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদান রাখায় 'চিত্তরঞ্জন দাশ স্বর্ণপদক' লাভ করেন। এছাড়া ২০০৬ সালে জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারসলেকচার সিরিজে'বাংলাভাষার একমাত্রলেখক হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাপানের চারটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে তিনিবাংলাদেশের সাহিত্য এবং তার নিজের লেখা নিয়ে বক্তৃতা করেন।এশিয়ার লেখকদের জন্যএ এক বিরল সম্মান। পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কারআইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড

আহমদ ছফাঃ তাঁর জন্ম ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম হেদায়েত আলী ওরফে ধন মিয়া। মা মরহুমা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন বাবা-মার দ্বিতীয় সন্তান।

আহমদ ছফাঃ  তাঁর জন্ম ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম হেদায়েত আলী ওরফে ধন মিয়া। মা মরহুমা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন বাবা-মার দ্বিতীয় সন্তান।

তার পরিচয় তিনি বাংলাদেশি একজন স্বনামধন্য লেখক, কবি ও সমাজবিজ্ঞানী ছিলেন।বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবী তিনি। তাঁর লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয়নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ২০০২ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক লাভকরেন। জীবদ্দশায়আহমদ ছফা তাঁর প্রথাবিরোধী, নির্মোহ, অকপট দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবীমহলে বিশেষ আলোচিত ছিলেন।


তার সাহিত্যেঃ প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন দীপ্তময়ভাবে। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আহমদ ছফার প্রথম গ্রন্থ একটি উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী। প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তবে বরুমতির আঁকেবাঁকে নামক একটি গ্রন্থও তার প্রথম গ্রন্থের দাবিদার। কথা জানান যায় খেখানে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশ পায় তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ জাগ্রত বাংলাদেশ। প্রকাশকাল শ্রাবণ ১৩৭৮ বা জুলাই ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি অভিসন্দর্ভের জন্য জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে আসেন। দীর্ঘকাল তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। ১৯৭১ সালে ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’ গঠন ও এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নেন। 

৭ই মার্চ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা’ হিসেবে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এপ্রিল মাসে কলকাতা চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সেখান থেকে দাবানল নামের পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশে ফিরে লেখালেখি করতে থাকেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক গণকণ্ঠ ধারাবাহিকভাবে ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ রচনা প্রকাশ করেন। এর কারণে তৎকালীন সরকারের রোষে পড়তে হয় তাঁকে। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস গ্রন্থ প্রকাশ পায়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন মোস্তানের সহায়তায় কাঁটাবন বস্তিতে ‘শিল্পী সুলতান কর্ম ও শিক্ষাকেন্দ্র’ চালু করেন। 

বাংলা একাডেমি থেকে বাঙালি মুসলমানের মনপ্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশ পায় ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ।ছফা মহাকবি গ্যোতের ফাউস্ট অণুবাদ শুরু করেন ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে । মুক্তধারা থেকে ফাউস্টের অণুবাদ বের হয় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে । ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস অলাতচক্র। স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির গোপন-রহস্য, শৌর্য মৃত্যু ও কপটতার গীতিকা এই উপন্যাস। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ এবং অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী প্রকাশিত হয়। ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ পূর্বে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রাণপূর্ণিমার চান নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল। জাপানী ভাষায় পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ উপন্যাসের অণুবাদ প্রকাশ পায় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে। পুষ্প, বৃক্ষ, বিহঙ্গ ঘুরে সুশীল সমাজের ব্যবচ্ছেদ হয়েছে তাঁর এই উপন্যাসে। 

বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ও সমসাময়িক কালের বিশিষ্ট পণ্ডিত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের প্রসঙ্গে রচিত যদ্যপি আমার গুরু প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে ।তাঁর জীবদ্দশায় আহমদ ছফা রচনাবলি প্রকাশ শুরু হয়। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে আহমদ ছফা রচনাবলি দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ পায়।  জীবিত থাকা কালীন আহমদ ছফা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছেন। সব থেকে বড় ব্যাপার আরেক নদিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ তার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

তার প্রবন্ধ        

.         জাগ্রত বাংলাদেশ(১৯৭১)

·        বুদ্ধিবৃত্তিরনতুন বিন্যাস (১৯৭২)

·        বাংলা ভাষা:রাজনীতির আলোকে (১৯৭৫)

·        বাংলাদেশেররাজনৈতিক জটিলতা (১৯৭৭)

·        বাঙালি মুসলমানেরমন (১৯৮১)

·        শেখ মুজিবুররহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৯)

·        Aspect of Social Harmony in Bangla Culture and Peace Song (১৯৯১)

·        রাজনীতির লেখা(১৯৯৩)

·        আনুপূর্বিকতসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ (১৯৯৪)

·        নিকট ও দূরেরপ্রসঙ্গ (১৯৯৫)

·        সঙ্কটের নানাচেহারা (১৯৯৬)

·        সাম্প্রতিক বিবেচনা:বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭)

·        শরবর্ষের ফেরারী:বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭)

·        শান্তিচুক্তি ওনির্বাচিত প্রবন্ধ (১৯৯৮)

·        বাঙালি জাতি এবংবাংলাদেশ রাষ্ট্র (২০০১)

·        উপলক্ষের লেখা(২০০১)

·        আমার কথা ওঅন্যান্য প্রবন্ধ (২০০২)

·        সেইসব লেখা(২০০৮)

কবিতাঃ জল্লাদ সময় (১৯৭৫)দুঃখের দিনের দোহা (১৯৭৫)একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা (১৯৭৭)লেনিন ঘুমোবে এবার (১৯৯৯)

উপন্যাসঃ সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭)ওংকার (১৯৭৫)একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন \\(১৯৮৮)মরণবিলাস (১৯৮৯)অলাতচক্র (১৯৯৩)গাভী বিত্তান্ত (১৯৯৫)অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬)পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৯৬)

গল্প সংগ্রহঃ নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯)ইতিহাসগ্রন্থ[সম্পাদনা]সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস (১৯৭৯)

কিশোর গল্পঃ দোলো আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮)

শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ[সম্পাদনা]গো-হাকিম (১৯৭৭)

পুরস্কারঃ তিনি লেখক শিবির পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃক সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। [১২][১৫] ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। তাঁকে ২০০২ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয় ।

মৃত্যুঃ ২০০১ খ্রিস্টাব্দের আটাশে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের সাধারণ গোরস্থানে তাঁর দাফন হয়।

পল্লী কবি জসীমউদ্‌দীনঃ ১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬

পল্লী কবি জসীমউদ্‌দীনঃ ১ জানুয়ারি ১৯০৩ - ১৩ মার্চ ১৯৭৬

তিনি বাংলাদেশে পল্লী কবি হিসেবে পরিচিত, যিনি আমাদের সবার প্রিয় কবি জসীমউদ্‌দীন। 

তাঁর লেখা কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান।পুরো নাম মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত। নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট কবির শ্রেষ্ঠ দুইটি রচনা। জসীমউদ্দীনের কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তার কাব্যগ্রন্থঃ

·        রাখালী (১৯২৭)

·        নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)

·        বালুচর (১৯৩০)

·        ধানখেত (১৯৩৩)

·        সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)

·        হাসু (১৯৩৮)

·        রঙিলা নায়ের মাঝি(১৯৩৫)

·        রুপবতি (১৯৪৬)

·        মাটির কান্না (১৯৫১)

·        এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)

·        সকিনা (১৯৫৯)

·        সুচয়নী (১৯৬১)

·        ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)

·        মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)

·        হলুদ বরণী (১৯৬৬)

·        জলে লেখন (১৯৬৯)

·        কাফনের মিছিল ((১৯৮৮)

·        কবর

তার কিছু গানঃ

  • *আমার সোনার ময়না পাখি
  • *আমার গলার হার খুলে নে
  • *আমার হার কালা করলাম রে
  • *আমায় ভাসাইলি রে
  • *আমায় এতো রাতে
  • *কেমন তোমার মাতা পিতা
  • *নদীর কূল নাই কিনার নাই
  • *ও বন্ধু রঙিলা
  • *রঙিলা নায়ের মাঝি
  • *নিশ্তে যাইও ফুলবাণে, ও ভোমরা
  • *ও বাজান চল যাই মাঠে লাঙল বাইতে
  • *প্রানো শখি রে ঐ শুনে কদম্ব তলে
  • *ও আমার দরদি আগে জানলে
  • *বাঁশরি আমার হারাই গিয়াছে
  • *বালু চরের মেয়া
  • *বাদল বাঁশি ওরে বন্ধু
  • *গাঙ্গের কূলরে গেলো ভাঙিয়া
  • *ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে
  • *ও আমার গহীন গানের নায়া
  • *আমার বন্ধু বিনুধিয়া

পুরস্কার

প্রেসিডেন্টস এওয়ার্ড ফর প্রাইড অফ পারফরমেন্স, পাকিস্তান (১৯৫৮)রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট ডিগ্রি, ভারত (১৯৬৯)১৯৭৪ সনে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেনএকুশে পদক, বাংলাদেশ (১৯৭৬)স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ১৯৭৮ (মরণোত্তর)

তিনি ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে তাঁর নিজ গ্রাম গোবিন্দপুরে দাফন করা হয়। গোবিন্দপুরে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে তার জন্মদিনকে স্মরণ করে জসীম মেলা নামে একটি পাক্ষিক উৎসব উদযাপন করা হয়। তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক আগামী পর্বে আপনাদের জন্য তুলে ধরবো আরও কিছু সাহিত্যিকের কিছু তথ্য। আমাদের পোস্টটি ভালও লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন ধন্যবাদ। 

আরও খবর পেটে হলে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পাজ এ www.facebook.com/bangladeshonlinenewspapers/

বাংলার ১০ জন নির্বাচিত সাহিত্যিকদের নাম ও তাদের কিছু তথ্য list of bangladeshi poets