যখন ঘুমের সময় নাক ডাকা হয় তখন সেটা ক্ষতিবিহীন ঘুমের অভ্যাস মনে করা হয়, কিন্তু এটা আসলে স্বাস্থ্যের অন্য সব ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা অবশ্যই অন্যদের কাছে অবশ্যই বিরক্তিক একটা ব্যাপার। যারা আপনার সাথে ঘুমায়, যেমন আপনার সঙ্গী কিংবা যে আপনার সাথে রুম শেয়ার করে।
এই নাক ডাকার অভ্যাসটি পরিহার করার জন্য তাই এই ৭ টি উপায় চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
নাক ডাকা বন্ধের ৭ টা সহজ উপায়।

ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তন করুন

 ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তন করুন

যদি পিছন করে ঘুমানো আপনার আরামদায়ক উপায় হয়ে থাকে তাহলে এটা পরিবর্তন করুন। যখন আপনি পিছন করে ঘুমান, এটি আপনার জিহবারটির বেসকে আপনার পিছনে ঠেলে দেয় যা নাক ডাকার উদ্রেক ঘটায়। অবাক করার মতো একটি উপায় হলো রাতের মাঝখানে ঘূণায়মাণ অবস্থা থেকে আপনাকে ছাড়িয়ে নিন। অথবা যদি আপনি আপনার মাথাকে চার ইঞ্চি উঁচু করেন তাহলে এটি আওনার জিহবাকে আপনার গলাতে ফিরিয়ে আনতে বাঁধা দেয়। যাই হোক, এখন নতুন এক ধরনের বালিশ বের হয়েছে যা আপনার নাক উদ্রেক কে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

ওজন কমান

ওজন কমান

যদি আপনি চিকন হয়ে থাকেন তাহলে খুব সম্ভবত এটা নাক ডাকার কারণ হবে নাহ। কিন্তু যদি আপনার সবসময় নাক ডাকার নেশা না থাকে এবং আপনার ওজন ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে তাহলে সম্ভবত এটাই মূল কারণ। নতুবা ওজন বেড়ে যাওয়া তা খুব অল্প পরিমাণ এ হলেও আপনার নাক ডাকার চান্স বাড়িয়ে তুলে। বিশেষ করে ঘাড়ের দিকে ওজন বাড়লে তা আপনার হলার উপর অতিরিক্ত চাপ দেয় যা নাক ডাকার উদ্রেক করে। যদি ওজন আপনার নাক ডাকার একমাত্র কারণ হয়ে থাক্র তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তা কমানোর চেষ্টা করুন। 

অ্যালকোহল কম পান করুন এবং পানি বেশী পান করুন

অ্যালকোহল কম পান করুন এবং পানি বেশী পান করুন

অবাক করার বিষয় হলো ঘাড়ের পেশীকে আরাম দেয়া নাক ডাকার কারণ হতে পারে। অ্যালকোহল আপনার নার্ভ এবং পেশী গুলো কে বিশ্রাম দেয় যা নাক ডাকার অন্যতম কারণের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে আপনি যদি তরল পানীয় পান করার ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে ঘুমাতে যান তাহলে নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এমনকি আপনার যদি নাক ডাকার অভ্যাস নাও থাকে তাও অ্যালকোহল পান করার কারণে রাতের ঘুমে নাক ডাকার উদ্রেক হতে পারে। তাই এ থেকে পরিত্রাণের জন্য রাতে শোয়ার আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিলে আরাম পাওয়া যাবে।

 ৪. আপনার সাইনাস আলতোভাবে ধৌয়ার চেষ্টা করুন

যদি নাক ডাকার সমস্যা আওনার সাইনাস থেকে হয়ে থাকে তাহলে আপনার প্যাসেজ এরিয়া পরিষ্কার করার অনেক উপায় আছে। গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে সেই পানিতে নরম তুলার মতো কিছু ভিজিয়ে আপনার পানি জমে যাওয়া নাকে ভিজাতে পারেন। এটা নাক ডাকা কমাতে অনেকটাই সহায়তা করবে। এছড়া ডিকনজেস্টেন স্প্রে ব্যাবহার করলে নাক ডাকার সমাধান হতে পারে।

 ৫. নতুন বালিশ ব্যবহার করুন

 এটা শুনতে অবাক লাগলেও সত্য যে আপনি বর্ত্মানে যে বালিশ ব্যবহার করছেন তা যতই পরিষ্কার করা হোক না কেনো এটার মধ্যে অ্যালার্জির উপাদান থাকতে পারে যা নাক ডাকার কারণ। এছাড়া আপনি যদি অপরিষ্কার রুমে বাস করেন।তাহলে ধূলাবালির উদ্রেক বেশী থাকবে যেটা নাক ডাকার কারণ হতে পারে। প্রতি ৬ মাস পর পর বালিশ পরিবর্তন করা ভালো। শুধু বালিশ পরিবর্তন নয় সেই সাথে রুম পরিষ্কার করে নিলে অ্যালার্জি জনিত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। আরেকটি বিষয় হলো আপনি যদি পোষা পাখি পালন করেন তাহলে রাতে তাদের কে গাপ্নার ঘরের বাইরে রাখুন কারণ এদের লোম গুলো অ্যালার্জির প্রধান হাতিয়ার।

 ৬. হারবাল ঔষধে প্রতিকার করার চেষ্টা করুন

আগেই বলা হয়েছে সাইনাসের সমস্যা নাক ডাকার অন্যতম কারণের মধ্যে পড়ে। এই সমস্যা সমধানের ২ টি উপায় হলো ইউক্যালিপটাস এবং মেন্থলের ব্যবহার। এই ২টি থেকে প্রয়োজনীয় তেল নিয়ে যদি আপনার ঘাড় এবং নাকে মালিশ করতে পারেন তাহলে এতে খুবই উপকার পাবেন। নতুবা একটা বাটিতে গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে ইউক্যালিপটাস এবং মেন্থনের কয়েক ফোঁটা তেল মিশিয়ে নিন। বাটিটি আপনার মাথার সাথে টাওয়েল দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ শুতে যাওয়ার আগে। যদি এটা করতে পারেন তাহলে আপনার নাকের সমস্যা এবং সেই সাথে নাক ডাকার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। 

৭.ভালো ঘুমের অভ্যাস করুন

আমরা এর আগে যেই সব উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি এই পদ্ধতিটি হলো সেইগুলোর পরিপূরক। যেমন ধরুন, অ্যালকোহল পান করা ছেড়ে দিলেন, রাতে ঘুমানোর আগে গরম জলে গোসল করে নিলেন এবং ঘুমানোর পজিশন পরিবর্তন করলেন কিন্তু এত কিছুর পরে যদি আপনি ভালো ঘুমের অভ্যাস না করে তুলতে পারেন তাহলে সব পদ্ধতি বৃথা যাবে। সারাদিন না ঘুমিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম এর পরে যঝন আপনি শুতে আসবেন তখন আপনি গভীর ঘুমে নিমজ্জিত হয়ে যাবেন তার মানে আপনার পেশীগুলো তখন আরাম থাকে যা আবার আপনার নাক ডাকার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।!!

YOUR REACTION?

Facebook Conversations