তুলনা, একটি একটি ব্যাধির নাম।

নিজস্ব ফিচার।

আজকের বিবরণী তুলনা নামক ব্যাধির।জ্বী,এটি একটি ব্যাধি,এক জটিল মানসিক ব্যাধি,যা আমাদের জীবন টাকে এক গোলকধাঁধার জালে পরিণত করে,যা আমাদের জীবনকে বীভৎস করে তুলে। বুজতে পারছেন না? তবে চলুন ব্যাপারটা আপনাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি।

যখন মায়ের পেটে ছোট বাচ্চাটি একটু একটু করে লাথি মারে,তখন বাবা বলে "ছেলেকে মেসির মত ফুটবলার বানাবো"।অন্যদিকে মা বলে "না,মাশরাফির মত ক্রিকেটার বানাবো"।একটা বাচ্চা জন্ম ও নিল না,কিন্তু শুরু হয়ে গেল তাকে নিয়ে তুলনার যুদ্ধ।

সারাজীবন আমাদের অর্ধেক সময় চলে তুলনার হিসাব চলতে চলতে।ছোট বাচ্চা যখন জন্ম নেয় তখন বলা হয় কেন দেখতে এর মত হল না,ওর মত কেন নাক চোখ না।তারপর যখন হাটতে শিখে,"এত দেরীতে কেন হাটে,এম্নে কেন কথা বলে",এর মত কেন খায় না,ওই বাচ্চা এত খায়,এই খাই সেই খাই...এই হলো একদম বাচ্চাকালের কাহিনী।

তারপর ধিরে ধিরে বাচ্চাটা বড় হয়,পড়াশুনা শুরু করে,তখন শুরু হয় পড়াশুনার তুলনা।ও এত ভাল রেসাল্ট করে,তুমি কেন পারো না! ও ১০০ পায় তুমি কেন পাও না,ও ক্লাসে ফাস্ট হয়,তুমি কেন হও না!!.............হাহ..........একটা বাচ্চার পিচ্চিকাল যায় শুধু তুলনা দিয়েই।আহা,বাচ্চাকাল!!!!!!!! 

এখন আপনাদের কাছে প্রশ্নঃ কখনো কি ভেবে দেখেছেন একটা ছোট বাচ্চাকে আপনি কতটা মানসিক অত্যাচার এর মধ্যে রেখেছেন!!!একটা ছোট বাচ্চা!!কখনো কি মায়া হয়না?বাচ্চাটার যদি অন্য কারো মত করার ক্ষমতা না থাকে,সেটা তার দোষ নয়।

এরপর একটু বড় হতে না হতেই যুদ্ধ শুরু !!তুমি কেন পাশের বাসার মেয়ের মত রাত জেগে পড়ো না,তুমি কেন  বড় আপার ছেলের মত গোল্ডেন পেলে না!তুলনার কি শেষ নেই।

এখন আপনাদের কাছে প্রশ্নঃ গোল্ডেন পাওয়াটাই কি জীবনের সব কিছু!গোল্ডেন না পেলে কি সে আর মানুষ থাকবেনা!! আপনার এই গোল্ডেন পাবার আশায় যে আপনার বাচ্চাটা সারাজীবন এর জন্য হারিয়ে যেতে পারে তা কখনো ভেবেছেন কি??


এর পর শুরু হয় ভার্সিটি। কেন তুমি সরকারি তে চান্স পেলে না, পাশের বাড়ির ভাবীর ছেলে বুয়েট এ চান্স পেল,সবাইকে আমরা কিভাবে মুখ দেখাব। আহ!সরকারি ভার্সিটি।

এরপর চাকরি,বিসিএস পরীক্ষা.......ওমুক ত সরকারি চাকরি করে,৮০০০০ বেতন।তোমার ত কিছুই নেই।কি করলে এই জীবনে!!!!!

এখন আপনাদের কাছে প্রশ্নঃ সরকারি তে কি চান্স পাওয়াই সব??প্রাইভেট ভার্সিটি তে পড়ে কি কেউ কোন দিন উন্নতি করতে পারেনাই??কত সরকারি ভার্সিটিতে পড়া ছাত্র এখনো চাকরি পাইনাই।

খুব বেশি বেতনের চাকরিই কি জীবনের সব?না পেলে কি তাকে মানুষ হিসাবে আর গন্য করা যাবেনা?এটা কি কোন সংবিধান এর নিয়ম???কই আমার ত জানা নেই এমন কোন নিয়ম!!তাইলে কেন সবাই এই ব্যাধিটাকে ছড়াচ্ছেন??

পরিশেষ এ বলতে চাই, সবাই সবার মধ্যে আলাদা।যার যার আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে।কিন্তু সেই গুনকে বিকশিত করার সুযোগ ত করে দিতে হবে।সেই সুযোগ করে দেয়া কিন্তু বাবা মার ই প্রথম দায়িত্ব। আপনার বাচ্চার দোষ তা না ধরে তার সবচে ভাল গুনটা বিকশিত করতে সাহায্য করুন।তাইলে হইত আপনার বাচ্চাই হয়ে উঠবে সবার মধ্যে একজন।

লেখিকাঃ নওশীন জাহান