ঢাকার নাম ঢাকা কেন

কখনো কি মনে প্রশ্ন আসে একটি জায়গার নাম করণ হয় কিভাবে? কেন ঢাকার নাম অন্য কিছু না হয়ে ঢাকাই হল? চলুন শুনি এই নাম করণের পেছনের কিছু মজার কাহিনী। লিখা -মোঃ সাজিদুল হক শুভ

ঢাকার নাম করণ নিয়ে অনেক ধরণের গল্প প্রচলিত আছে। তার মধ্যে প্রচলিত একটি গল্প হল কোন একজন রাজা ঢাক বাজিয়ে রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন। যত দূর পর্যন্ত ঢাকের শব্দ শোনা যাবে ততদূর পর্যন্ত তার রাজ্য। ঢাক  বাজিয়ে সিমানা নির্ধারিত হয়েছিল বলে ঐ রাজ্যের নাম পরে হয় ঢাকা।

অন্য একটি পক্ষ দাবী করে যে এভাবেনয়। ঢাকার নাম করণ হয়েছিল কিছুটা অন্য ভাবে।

তাদের মতে কোন এক রাজা তার রাণীকেএকটি অপরাধের জন্য ১ বছর বনবাস দিয়েছিলেন। বনবাসে রাণীকে পাঠানো হয় বুড়িগঙ্গার পশ্চিম তীর ঘেষা একটি দুর্গম জঙ্গলে। রাজা জানতেন না যে রাণী তখন সন্তান সম্ভাবনাময়ী ছিলেন। বনবাসে যেয়ে রাণী একটি ভাঙ্গা মন্দিরের সন্ধান পান বনের ভিতরে।যেটাকে তিনি তার সাময়িক থাকার জায়গা হিসেবে বেছে নেন। মন্দিরটি অতিশয় পুরানো ওভাঙ্গাচোরা হলেও সেখানে নিয়মিত পূজো আর্চনা হত। আর সেই পূজোর প্রসাদই ছিল রাণীর আহার্য। সেইখানেই তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বনে জন্ম বলে তিনি তার নাম রাখেন বনলাল সেন। পরবর্তীতে রাজা রাণীকে রাজ্যে ফিরিয়ে নেন। কালেক্রমে সেই ছেলে বড় হয়ে বাংলার তট দখল করে। তিনি ইতিহাসের পাতায় বল্লাল সেন নামেই সার্বাধিক পরিচিত।তো বাংলা দখলের পর তার সাধ হল নিজের জন্ম স্থানটা দেখবেন। যেই কথা সেই কাজ। মায়ের নির্দেশনা মতে চলে গেলেন সেই বনে। পেয়ে গেলেন সেই ভাঙ্গা মন্দির। যার অবস্থা আরো ভগ্ন হয়েছে। কিন্তু পূর্বের ন্যায় দেবী তখনো জাগ্রত এবং তখনো তার পূজো হয়। কিন্তু দেবী মূর্তী পুরোটায় লতায়-পাতায় বন-জঙ্গল হয়ে ঢেকে গিয়েছিল। তিনি তা পরিষ্কার করেসেখানে একটি নতুন মন্দির স্থাপন করেন এবং দেবীকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। যেহেতু দেবীকে লতায়-পাতায় ঢাকা অবস্থায় তিনি পেয়েছিলেন তাই সেই মন্দিরের নাম রাখেন “ঢাকা-ঈশ্বরীর মন্দির"। কালে কালে মানুষের মুখে মুখেতা হয়ে ওঠে "ঢাকেশ্বরীর মন্দির"। আর সেই মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠালোকালয় পরিচিতি পায় "ঢাকা" নামে।

পুরোটায় লোক কথার মত। কিন্তু কে জানে হতেও পারে এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঢাকার প্রকৃত নাম করণের ইতিহাস।