কুতুব মিনার

ঘোরার জায়গা হিসেবে ভারত অনেকেরই প্রথম পছন্দ। তার মধ্যে আগ্রা, দিল্লী, জয়পুর বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। ধারাবাহিক লেখায় এই জায়গা গুলোর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য জায়গা গুলোর বর্ননা তুলে এনেছেন মোঃ সাজিদুল হক শুভ। ধারাবাহিক লেখার প্রথম পর্বে আজ থাকছে দিল্লী।

ImageImageImageImageসমগ্র ভারত জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাচীন ও ঐতিহাসিক  শিল্প নিদর্শন। কিছু নিদর্শন বিখ্যাত তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে। আর কিছু বিখ্যাত তার অপূর্ব শৈলির কারণে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মোদ বিন বখতিয়ার খলজির আগমনের মাধ্যমে ভারতে মুসলিম শাষকদের আগমনের পর থেকে ভারতীয় শিল্প সংস্কৃতিতে প্রচুর পরিবর্তন দেখা দেয়। 

যার মধ্যে দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। যেটি দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।লাল বেলে পাথরের নির্মিত এই মিনার আকৃতির স্থাপনাটিকে বিশ্বের সব থেকে উচু ইটের স্থাপনা হিসেবেও ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রেএটিকে ইসলামিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার একটি বিজয় নিশান হিসেবেও গণ্য করা হয়ে  থাকে। ধারণা করা হয় আফগানস্থানের প্রথম যুগের স্থাপনার নিদর্শন “জাম মিনার” থেকে উৎসাহিত হয়েই কুতুব উদ্দিন আইবেক এই মিনার নির্মান শুরু করেছিলেন। এই মিনারের যে নির্মান শৈলী তা পরবর্তীতে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপনা শৈলী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

অনেকের মতে ভারত দখলের প্রাক্কালে ধ্বংস প্রাপ্ত বিভিন্ন মন্দিরের ভাঙ্গা পাথর ইট প্রভৃতির ব্যবহারের মাধ্যমেই এই কুতুব মিনার নির্মান প্রকৃয়ার সূচনা হয়। ১১৯৩ সালে কুতুব উদ্দিন আইবেক এর নির্দেশে এটির নির্মান কাজ শুরু হয়। তখন মূলত রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ রাজ চৌহানের বিপক্ষে মোহাম্মদ ঘুরির বিজয়ের স্বারক হিসেবে এই সৌধ নির্মান শুরু হয়। যার কারণে এই মিনারের নিচের অংশে মোহাম্মদ ঘুরির সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের স্তুতি সূচক কথা খোদাই করে লেখা আছে।এটির নির্মান কাজ শুরু করলেও কুতুব উদ্দিন আইবেক এটির কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারেননি।মিনারের ৪ টি স্তরের একটিই তার দ্বারা সমাপ্ত করা সম্ভব হয়েছিল শুধু মাত্র। পরবর্তীতে তার দৌহিত্র ইলতুঘনিস এর উপরের স্তর গুলোর কাজ শেষ করেন। ১৩৬৮ সালে বজ্রপাতের কারণে এটিতে একটি বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়। তারই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুখলঘ এটিকে সংস্কার ও পরিমার্জনা করেন। তিনি উপরের মার্বেল পাথরের অংশ টি ও সর্ব উপরের অংশটিকে সংযোজন করেন।যেহেতু আইবেক থেকে শুরু করে তুখলঘ বংশ আবধি এই মিনারের নির্মাণ কাজ চলেছিল সুতরাং এই মিনারের নানান অংশে মধ্যস্থ সব গুলি সময়ের নির্মান শৈলির বৈশিষ্ট লক্ষ্য করা যায়। এই মিনারের সমগ্র বাইরের পাশে কোরান শরিফের আয়াত খোদাই করে লেখা আছে। যা ইসলামিক ক্যালিগ্রাফিক একটি অনন্য নিদর্শন। এই মিনারটি ৭২.৫ মিটার ( ২৩৯ ফুট)  উচু এবং এর গোলাকৃতির তলার অংশের ব্যাস ১৪.৩ মিটার ও শীর্ষাংশের ব্যাস ২.৭ মিটার। এর ভিতরে ৩৭৯ টি সিঁড়ি রয়েছে উপরে উঠার জন্য। আগে এই সিড়ি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও  ১৯৮১ সালে ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন তা সম্পূর্ণ বন্ধ।

যদিও এটিকে নির্মানের উদ্দেশ্য হিসেবে নিজেদের বিজয়গাথাকে প্রচার করার কথা বলা হয়ে থাকে তদুপরি জনশ্রুতি আছে যে এটি মূলত কুতুব কমপ্লেক্সে অবস্থিত কুয়াত-আল-ইসলাম মসজিদের মিনার স্বরূপ নির্মিত হয়েছিল।