ব্যবসা-বাণিজ্যে তল্লাশি শুরু করেছে আইস!
অবৈধ অভিবাসী আটক

একের পর এক অভিবাসনবিরোধী নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এবার আমেরিকার ইমিগ্রেশন বিভাগ কর্মস্থলে তল্লাশি শুরু করেছে। যেসব ব্যবসায়ী নথিপত্রহীন ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসীদের কাজ দিচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস বিভাগ ২৫ জুলাই জানিয়েছে, আমেরিকাজুড়ে এই তল্লাশি চলবে। কাজের অনুমতি নেই এমন লোকজনকে কাজে পাওয়া গেলে, চাকরিদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হবে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের এমন ঘোষণায় আমেরিকাজুড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খামার, নির্মাণকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ সেবা খাত সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে এক সপ্তাহে ‘নোটিশ অফ অডিট’ শীর্ষক চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রায়সাড়ে তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ও প্রতিটি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত রাজ্য অনুযায়ী জারি করা নোটিশের আলাদা কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। 

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ম্যাথিউ এলভেনস বলেন, কর্মস্থলে এ ধরনের তল্লাশি করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের নামে অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ নিয়ে আসা। তিনি বলেন, অনেক চিহ্নিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো হয়েছে কাগজপত্রহীন ইমিগ্রান্টদের দিয়ে কাজ করানোর জন্য। কর্মস্থলে তল্লাশি করে অবৈধ অভিবাসন এবং ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ দিলে দায়ী করা হবে আইন লঙ্ঘনকারীদের। এসব ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দেওয়া, কর কম দেওয়াসহ অর্থ পাচার, অবৈধ লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ আনা হবে। এই অভিযোগ এমপ্লয়ার ও কর্মী উভয়ের ওপর আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তসহ নানাভাবে আমেরিকায় আসা লোকজন নানা কথা বলে এ দেশে থাকার আশ্রয় চাইলেও ইমিগ্রেশন বিভাগ মনে করে, আমেরিকায় প্রধানত ইকোনমিক মাইগ্রেশন ঘটছে। লোকজন যে করেই হোক কাজ চায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া অভিবাসীদের নানা প্রতিষ্ঠান কাজ দিচ্ছে। ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান কিছু বৈধ ইমিগ্রান্টদের কাজ দিচ্ছে। আর এদের আড়ালে সমান বা বেশি সংখ্যক লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছে যাদের ওয়ার্ক পারমিট নেই। 

কাজের অনুমতিহীন ইমিগ্রান্টদের কাজ দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হলেও এর আগে কর্মক্ষেত্রে খুব বেশি একটা তল্লাশি হয়নি। ইমিগ্রেশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেছেন, আমরা একটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাই। অবৈধ অভিবাসীদের ওপর ভিত্তি করে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত অভিবাসন নীতি কার্যকর করতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিবাসী গ্রুপগুলো মনে করে। 

আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা শি বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগের এই পদক্ষেপ আমেরিকার কৃষি ও সেবা খাতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরিই শুধু নয়, এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ আমেরিকার অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

YOUR REACTION?

Facebook Conversations